Long Term Ownership Feelings...
পৌনে দুই লাখ কিলোমিটার চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা
বান্দরবান, থানচি, রেমাক্রি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
সকালে হোটেল চেক আউট করে বান্দরবান থেকে রাস্তার অপরুপ দৃশ্য দেখতে দেখতে ছুটে চললাম থানচির দিকে, পথে পেলাম বৃষ্টির দেখা।
পাহাড়ে বৃষ্টি মানেই পাহাড়ের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া।
পথে কিছু ব্রেক নিলাম, ঝর্নার ঠান্ডা জলে শীতল হলাম।
বৃষ্টির কারনে রাস্তায় বেশ কিছু জায়গায় গর্ত এবং কাদা পেয়েছি যেটা পার হতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে।
শেষের পথটুকু বেশ তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে, কারন থানচি বাজার থেকে ৩ টার পর রেমাক্রির দিকে রওনা হওয়া নিষিদ্ধ।
রেমাক্রিতে যেতে হলে একজন গাইড নেয়া বাধ্যতামূলক।
সাথে নিতে হয়েছে লাইফ জ্যাকেট।
বোটের ভাড়া ৪৫০০ টাকা করে।
তো শেষ সময়ে উঠে পড়লাম বোটে আর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা
উচুনিচু পাথুরে পথ বেয়ে শুরু হলো আমাদের রোমাঞ্চকর যাত্রা....
এই পথটা একই সাথে ভীষণ এডভেঞ্চারাস, রোমাঞ্চকর আর ভীষণ শান্তির। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য খুজে পাবেন প্রতি মুহুর্তে। ঘন্টা দেড়েক চলার পর পৌছে গেলাম রেমাক্রি ফলসে।
যদিও সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো, কিন্ত জলপ্রপাতকে আলিংগন করার লোভ সামলাতে পারছিলাম না। বেশ খানিকটা সময় পানিতে গা ডুবিয়ে নিলাম।
রাতের খাবারে ছিলো সাদা ভাত, বন মোরগ, আলুভর্তা আর ডাল। মনে হলো বহুদিন পর অর্গানিক খাবারের স্বাদ পেলাম। গভীর রাত পর্যন্ত জোছনাভরা জলপ্রপাতের সামনে বসে উপভোগ করলাম এক অপার সৌন্দর্যের রাত।
রেমাক্রি জলপ্রপাতে আসতে হলে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে আসতে হয়। থানচি থেকে নদীপথে রেমাক্রির দুরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। যেহেতু বাইক নিয়ে গিয়েছিলাম তাই বাইকগুলো থানচি বাজারে রেখে, থানচি বাজার থেকে বিজিবি পারমিশন নিয়ে একজন গাইড এবং লাইফ জ্যাকেট নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে চড়ে রওনা হয়েছিলাম রেমাক্রির পথে।
তবে বিকাল ৩ টার আগেই উঠতে হয় ট্রলারে। ট্রলার ভাড়া ৪৫০০ টাকা, লাইফজ্যাকেটের জন্য মাথাপিছু ৫০ টাকা নিয়েছিলো।
যাওয়ার পথে স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়েছে, তাই সময় কিছুটা বেশি লেগেছিলো তবে পুরো সময়টা ছিলো এডভেঞ্চারে ভরা।
যাত্রাপথে সাংগু নদীর দুপাশের ল্যান্ডস্কেপ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এ পথেই পেয়েছি পদ্মমুখ, তিন্দু, রাজাপাথর আর বড় পাথর।
রেমাক্রি ফলসের উচ্চতা খুব বেশি না, তবে এটা বেশ চওড়া।
সকালের নাশতায় ডিম খিচুড়ি খেলাম।
সাধারণ খিচুড়ির অসাধারণ স্বাদ মুখে লেগে থাকবে অনেকদিন....
ফাহিম ভাই, রিয়াদ ভাই, অন্তর, সজীব ভাই, বিশাল, অনিক, অতনু, আকাশ, আর দুলাভাই সবাই মিলে যে অসাধারণ কিছু সময় কাটিয়েছি তার জন্য সবার কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ।































