Showing posts with label Travel Story. Show all posts
Showing posts with label Travel Story. Show all posts

পৌনে দুই লাখ কিলোমিটার চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা

 Long Term Ownership Feelings... 


কর্নফুলি মোটরসের ইম্পোর্ট করা Yzf R15 বাইক। কোয়ালিটি এতই ভালো যে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। 
১৩ বছর ধরে চালাচ্ছি বাইকটা, এখনো প্রায় নতুনের মতই পার্ফমেন্স পাচ্ছি। সামনে পিছনে ওভার সাইজ টায়ার লাগানোর পরেও টপ ১৪৪ হিট করে। 
গত ১৩ বছরে বাইকটি চালিয়েছি, 
১ লক্ষ ৭৫ হাজার কিলোমিটার। 
কখনো হতাশ করেনি এই দীর্ঘ যাত্রায়।
দেড় লক্ষ কিলোমিটার চালানোর পর প্রথমবার ইঞ্জিন রিবিল্ট করিয়েছিলাম।



ট্যাংকি খুলে যাওয়া, চেইন ছিড়ে যাওয়া,
রঙ উঠে যাওয়া, ফুয়েল পাম্প নস্ট হওয়া, তেলের মিটারে উলটা পালটা রিডিং দেয়া, ব্রেক মিস করা, চেসিস বেকে যাওয়া, 
রিম ভেংগে যাওয়া, নানান যায়গায় মরিচা পড়া অথবা রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত কোনো বাজে ঘটনা আজ পর্যন্ত কখনো ঘটেনি আমার সাথে। 

কর্নফুলি মোটরস প্রায় ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশে ইয়ামাহার অথোরাইজড ডিলার ছিলো, এই ৪০ বছরে উপরে লেখা সমস্যাগুলো কোনো ইয়ামাহা ইউজার ফেস করেছেন বলেও আমার জানা নেই। 

ঘুরে বেড়িয়েছি দেশের আনাচে কানাচে পাহাড়ে সাগরে যখন তখন। একবারের জন্যেও রাস্তায় কোন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি বাইকের জন্য। তবে ভ্যাজাল তেলের কারনে মাঝে মাঝে সামান্য এক্সিলারেশন প্রবলেম ফেস করেছি যেটা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, তাই টুরে গেলে সাথে অক্টেন বুস্টার রাখি। 


রাস্তা যত দুর্গমই হোক ইঞ্জিনের পাওয়ার এবং এক্সিলারেশনে কোন বিশেষ কমতি আমি ফিল করিনি, বরং যে-কোন টাফ সিচুয়েশন থেকে স্মুথলি বের হয়ে এসেছি এই বাইকের দারুন কন্ট্রোলিং এর কারনে।




আমি মনে করি বছরের পর বছর সেরা কোয়ালিটি এনশিওর করার পরেই ধীরে ধীরে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি হয়। 
বাইকের কোয়ালিটিতে সন্তস্ট হবার কারনেই আমি কর্নফুলি মোটরসের কাছে কৃতজ্ঞ। 
কারন তাদের মাধ্যমেই কোয়ালিফাইড এবং সত্যিকারের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ইয়ামাহা বাইকের স্বাদ নিতে পেরেছিলাম।

বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি এবং মেটাল কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো হবার কারনে ঘনঘন সার্ভিস সেন্টারে নেয়ারও প্রয়োজন হয়নি। শুধুমাত্র ব্রেক প্যাড, এয়ার ফিল্টার, অয়েল ফিল্টার, চেইন এবং টায়ারের মত বেসিক কঞ্জুমেবল এবং মেইন্টেনেন্স পার্টস ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য কোনো কিছুই প্রয়োজন হয়নি। তাই আমি এই বাইক নিয়ে সুপার কনফিডেন্ট। 

বাইকের প্রতিটা পার্টস খুবই হাই কোয়ালিটি এবং ডিউরেবল। 
কর্নফুলি মোটরসের ইম্পোর্ট করা Yamaha FZ16 2009 মডেল চালিয়েছিলাম এর আগে প্রায় ৫৫ হাজার কিলোমিটার, সেটার কোয়ালিটিও এরকম চমৎকার ছিলো। অরিজিনাল ইয়ামাহা বলতে এরকম কোয়ালিটিই বুঝি। যারা কর্নফুলি মোটরসের ইম্পোর্ট করা ইয়ামাহা বাইক চালিয়েছেন তারা অবশ্যই আমার সাথে কোয়ালিটির ব্যাপারে  একমত হবেন। 

আসলে ভালো কোয়ালিটির একটা প্রোডাক্টই ম্যানুফ্যাকচারার অথবা ডিলারের সাথে ইউজারের বন্ডিং, বিশ্বাস এবং আস্থা তৈরি করে করে দেয়, 
এর বাইরে এক্সট্রা কোনো গিফট, ফ্রি সার্ভিস, ফ্রি টিশার্ট, ডিস্কাউন্ট অফার, অথবা দাওয়াতের প্রয়োজন হয়না। 
Product Quality Really Matters!!

Yamaha R15 version 1  বাইকের লং টার্ম অউনারশিপ ফিলিংস শেয়ার করেছেন-
 iqbal abdullah raaz

বান্দরবান, থানচি, রেমাক্রি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

হঠাৎ করেই রাতের বেলা বিশালের ফোন কল!!
ভাইব্রাদারের সাডেন প্লান, টুরে যাবে। 

জিজ্ঞেস করলাম কোথায়? 
বললো চলেন ভাই, বান্দরবান, থানচি আর রেমাক্রি ঘুরে আলীকদম দিয়ে বের হয়ে কক্সবাজার ঘুরে ঢাকায় ব্যাক করবো
অনেকদিন ধরেই টুরে যাওয়া হচ্ছিলো না তাই আর লোভ সামলাতে পারলাম না। ব্যাস, হালকা করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাত ১২ টার দিকে। মিট পয়েন্ট ছিলো হানিফ ফ্লাইওভার। ১ টার মধ্যে সবাই হাজির। 
একটানে চলে গেলাম কুমিল্লা। মিয়ামিতে নাশতা সেরে আবার বাইক স্টার্ট করলাম। 
ভোর হতে হতেই চিটাগং বায়েজিদ লিংক রোডে নিলাম চায়ের বিরতি। 

এরপর রওনা  হলাম বান্দরবানের পথে। 
বান্দরবান পৌছে আগেই বুক করে রাখা কটেজে উঠলাম, ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ সেরে ছোট একটা ভাতঘুম দিলাম।
বিকেলে চলে গেলাম নীলাচল। সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডাবাজি করে বের হলাম রাতের বান্দরবান শহর ঘুরতে। 
ঘুরে ফিরে চলে গেলাম পাহাড়ের উপর তং রিসোর্টে। 





এখানকার ভিউ টা দারুন। শহরের আলো, দূরের পাহাড় আর সাংগু নদির ভিউ একসাথে পেলাম ৷ 
সাথে ছিলো দেশি ফ্রাইড চিকেন, অসম্ভব মজার চিকেন চাওমিন আর কোল্ড ড্রিংক্স। 
সব মিলে একদম জমে গিয়েছিলো। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডাবাজি করে ঘুমিয়ে পড়লাম সবাই। 


সকালে হোটেল চেক আউট করে বান্দরবান থেকে রাস্তার অপরুপ দৃশ্য দেখতে দেখতে ছুটে চললাম থানচির দিকে, পথে পেলাম বৃষ্টির দেখা।


পাহাড়ে বৃষ্টি মানেই পাহাড়ের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া। 

পথে কিছু ব্রেক নিলাম, ঝর্নার ঠান্ডা জলে শীতল হলাম।




বৃষ্টির কারনে রাস্তায় বেশ কিছু জায়গায় গর্ত এবং কাদা পেয়েছি যেটা পার হতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে। 




শেষের পথটুকু বেশ তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে, কারন থানচি বাজার থেকে ৩ টার পর রেমাক্রির দিকে রওনা হওয়া নিষিদ্ধ। 





রেমাক্রিতে যেতে হলে একজন গাইড নেয়া বাধ্যতামূলক।

সাথে নিতে হয়েছে লাইফ জ্যাকেট। 

বোটের ভাড়া ৪৫০০ টাকা করে। 


তো শেষ সময়ে উঠে পড়লাম বোটে আর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা

উচুনিচু পাথুরে পথ বেয়ে শুরু হলো আমাদের রোমাঞ্চকর যাত্রা....

এই পথটা একই সাথে ভীষণ এডভেঞ্চারাস, রোমাঞ্চকর আর ভীষণ শান্তির। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য খুজে পাবেন প্রতি মুহুর্তে। ঘন্টা দেড়েক চলার পর পৌছে গেলাম রেমাক্রি ফলসে।

যদিও সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো, কিন্ত জলপ্রপাতকে আলিংগন করার লোভ সামলাতে পারছিলাম না। বেশ খানিকটা সময় পানিতে গা ডুবিয়ে নিলাম।

রাতের খাবারে ছিলো সাদা ভাত, বন মোরগ, আলুভর্তা আর ডাল। মনে হলো বহুদিন পর অর্গানিক খাবারের স্বাদ পেলাম। গভীর রাত পর্যন্ত জোছনাভরা জলপ্রপাতের সামনে বসে উপভোগ করলাম এক অপার সৌন্দর্যের রাত।







রেমাক্রি জলপ্রপাতে আসতে হলে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে আসতে হয়। থানচি থেকে নদীপথে রেমাক্রির দুরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। যেহেতু বাইক নিয়ে গিয়েছিলাম তাই বাইকগুলো থানচি বাজারে রেখে, থানচি বাজার থেকে বিজিবি পারমিশন নিয়ে একজন গাইড এবং লাইফ জ্যাকেট নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে চড়ে রওনা হয়েছিলাম রেমাক্রির পথে।

তবে বিকাল ৩ টার আগেই উঠতে হয় ট্রলারে। ট্রলার ভাড়া ৪৫০০ টাকা, লাইফজ্যাকেটের জন্য মাথাপিছু ৫০ টাকা নিয়েছিলো।




যাওয়ার পথে স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়েছে, তাই সময় কিছুটা বেশি লেগেছিলো তবে পুরো সময়টা ছিলো এডভেঞ্চারে ভরা। 

যাত্রাপথে সাংগু নদীর দুপাশের ল্যান্ডস্কেপ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এ পথেই পেয়েছি পদ্মমুখ, তিন্দু, রাজাপাথর আর বড় পাথর। 


রেমাক্রি ফলসের উচ্চতা খুব বেশি না, তবে এটা বেশ চওড়া।

সকালের নাশতায় ডিম খিচুড়ি খেলাম। 

সাধারণ খিচুড়ির অসাধারণ স্বাদ মুখে লেগে থাকবে অনেকদিন....


ফাহিম ভাই, রিয়াদ ভাই, অন্তর, সজীব ভাই, বিশাল, অনিক, অতনু, আকাশ, আর দুলাভাই সবাই মিলে যে অসাধারণ কিছু সময় কাটিয়েছি তার জন্য সবার কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ।