মোটরসাইকেল যারা চালাই তাদের অনেক বড় একটা টেনশন থাকে বাইকের নিরাপত্তা নিয়ে। কারন,
বাইক নিয়ে বিভিন্ন কাজে গেলে বাইক খোলা জায়গায় পার্ক করতে হয়।
অরক্ষিত পার্কিং থেকেই বাইক চুরি হবার ঝুকি থাকে সবচেয়ে বেশি।
বাইকারদের কাছে বাইক অনেক শখের এবং প্রয়োজনীয় একটা ভেহিক্যাল। অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় বাইক চুরি হবার প্রবনতা অনেক অনেক বেশি তাই বাইকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।
কিন্ত কিভাবে?
বাজারে যেসব তালা বা ডিস্ক লক পাওয়া যায় সেগুলো কতটা নিরাপদ এটা নিয়েও প্রচুর কনফিউশান আছে ৷
তাছাড়া সাধারণ তালাগুলো ভেংগে ফেলাও খুব সহজ। বিভিন্ন সিসিটিভি থেকে বাইক চুরির ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে সাধারণ ডিস্কলক বা তালা ভাংতে চোরের সময় লাগে গড়ে ১৪ সেকেন্ড। ঘাড় লক ভাংতে ৪ সেকেন্ড এবং মাস্টার চাবি দিয়ে বাইক চালু করতে ৬ সেকেন্ড।
অর্থাৎ মাত্র ২৫ সেকেন্ডের কম সময়ে একটা বাইক চুরি হয়ে যেতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে শুধুমাত্র ঢাকা শহর থেকে প্রতিমাসে চুরি হয় ৩৬-৪০ টি বাইক এবং বছরে প্রায় ১৪ হাজার বাইক।
মিরপুর, বাড্ডা, শ্যামলি, মাটিকাটা, শাহবাগ, মিটফোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা এবং কামরাংগীরচরে অন্তত ২০টি সক্রিয় চোরচক্র রয়েছে।
চুরি যাওয়া বাইকগুলো ঢাকার বাইরে পাচার করে দেয়া বা যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেয়া হয়।
অভিজ্ঞ একজন মোটরসাইকেল চোরের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি কি কি উপায়ে মোটরসাইকেল লক করলে সেটা চুরি করা অসম্ভব? চলুন দেখি চোর কি কি বলেছে?
শীর্ষ মোটরসাইকেল চোর আবুল কালাম। ১৩ বছরে যিনি দুইশোর বেশি মোটরসাইকেল চুরি করেছেন।
তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৫৩টি।
প্রায় ১০-১২ জনের একটা চোর চক্রের ওস্তাদ তিনি। বললেন মোটরসাইকেল চুরি ঠেকানোর ৩ টি উপায় নিয়ে।
প্রথমত : মোটরসাইকেলে তীব্র শব্দের সিকিউরিটি এলার্ম লাগানো। যেন বাইক স্পর্শ করলেই এলার্ম বেজে উঠে। এলার্ম বাজলে চোরেরা সেই বাইকের উপর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে এবং দুরত্ব বজায় রাখে। কারন শব্দ এবং আলো এই দুটি জিনিস চোরের চিরশত্রু।
দ্বিতীয়ত : জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো যেতে পারে যাতে বাইকের অবস্থান সহজেই সনাক্ত করা যায়। তবে মোটরবাইকে জিপিএস লাগালে সেটা অবশ্যই এলার্মের সাথে কম্বাইন্ড করে লাগানো উচিত। কারন বাইক স্পর্শ করলে শব্দ হওয়া অনেক বেশি জরুরি।
তৃতীয়ত : এলার্মের পাশপাশি সাধারণ ডিস্কলক ব্যাবহার না করে মোটা এবং লম্বা হুকের তালা ব্যাবহার করতে পারলে ভালো কারন সেগুলো ভাংতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় এবং পরিশ্রম লাগে।
এই ৩টি উপায়ে বাইক লক করা থাকলে চোর কখনোই ঝুকি নিতে চায় না।
কোন ধরনের বাইক চুরি করতে বেশি আগ্রহী এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজারে যেসব বাইক সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কমন সেগুলোর দিকেই চোরের টার্গেট থাকে বেশি, যেমন FZS, Gixxer, 4v, Pulsar, R15, CBR, MT15, Hunk, Hornet, Discover এসব বাইক চুরি করে বিক্রি করা সহজ, কারন এসব বাইকের কাস্টমার এভেইলেবল। দাম ভালো পাওয়া যায়৷
বাজারে এভেইলেবল কোন ধরনের লক বা তালাকে ভয় পান? এর উত্তরে তিনি জানান অরিজিনাল চোর কখনো কোনো তালাকে ভয় পায় না।
তবে TASSLOCK টাইপের এলার্ম এবং জিপিএস সহ কম্বাইন্ড সিকিউরিটি সিস্টেম গুলো লাগানো থাকলে আমরা প্রচন্ড বিরক্ত হই, যার কারনে এলার্ম লাগানো বাইকগুলো এড়িয়ে চলি।
সাধারণত কোন সময়টাতে বাইক চুরি করেন? জবাবে তিনি বলেন,
চুরির আসলে কোনো নির্দিস্ট সময় নাই, তবে রোজার সময়, ঈদের সময় চুরি করতে বেশি সুবিধা। কারন রোজার সময় মানুষ ক্লান্ত থাকে, বাইকের দিকে খেয়াল রাখে কম। ঈদেও মানুষ ব্যাস্ততা বা মার্কেট করা নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কারনে বাইকের কথা ভুলে যায়।
লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ।
এডমিন, Bike Doctor BD