বাইকের রীমে সীসার তৈরি একটা ক্লিপ নিশ্চই খেয়াল করেছেন? হয়তো মনে প্রশ্নও এসেছে এই ক্লিপের কাজ কি? কেন দেয়া হয়?
প্রায়শই আমরা আমাদের গাড়ি বা মোটরসাইকেলের চাকায় চিত্রানুরূপ
এক বা একাধিক সীসার ওয়েট লাগানো দেখতে পাই। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে- এটা কী এবং কেনই বা লাগানো হয়?
কোন চাকায় কম-বেশি আবার কোনটায় একেবারেই নেই কেন?
এটা থাকা বা না থাকা কি কোন সমস্যা?
এটাকে বলা হয় হুইল/টায়ার ব্যালেন্সার ওয়েট।
বাইক বা যেকোন গাড়ির চাকাতেই এটা থাকতে পারে। থাকবে কিনা সেটা ডিপেন্ড করে চাকার ব্যালেন্সিং কতটা পারফেক্ট আছে তার ওপর। অর্থাৎ একটি গাড়ির চাকার ভর সব দিকে সমান থাকলে তাকে বলে ব্যালেন্সড হুইল। চাকার ক্ষয় ও সর্বপরি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও আরাম নিশ্চিত করার জন্য হুইল ব্যালেন্সিং খুবই জরুরি।
যেহুতু চাকার রিম এবং টায়ার টিউব আলাদা আলাদা করে তৈরি করা হয় তাই রিম-এর সাথে টায়ার-টিউব লাগানোর পরই কেবল ব্যালেন্সিংয়ের ব্যাপারটা আসে। তার আগে কোন ম্যানুফ্যাকচারারের পক্ষেই পারফেক্ট ব্যালেন্সড হুইল বানানো সম্ভব না। যদিও বর্তমান প্রযুক্তিতে রিম, টায়ার ও টিউব তৈরির সময় যথেষ্ট ব্যালেন্সিং নিশ্চিত করা হয়। রিমের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হলেও টায়ার টিউব শতভাগ পারফেক্ট হয় না। বিশেষ করে এই তিনটা পার্টস একসাথে হবার পর কোন এক বা একাধিক পার্টসের ভরে সামান্য এদিক সেদিক থাকলে সার্বিকভাবে ব্যালেন্সিংয়ে সমস্যা হবে।
সেজন্য যেকোন হুইলেই এই ব্যালেন্সার থাকতে পারে। টিউবলেস টায়ারে তুলনামূলক কম লাগার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু তবুও একটা হুইলে কোন ব্যালেন্সার লাগবেই না এমন গ্যারান্টি দেবার সুযোগ নেই।
তাই চাকা (রিম-টায়ার-টিউব) সংযোজনের পর এটাকে হুইল ব্যালেন্সার নামক একটা যন্ত্রের সাথে সেট করে কৃত্রিমভাবে ঘুরিয়ে চেক করা হয় যে এটা পারফেক্ট ব্যালেন্সড আছে কিনা। যদি কোন পাশে ভরের সামান্য তারতম্য থাকে তখন এই ব্যালেন্সিং ওয়েট লাগিয়ে সেটা সমন্বয় করা হয়।
কাজেই কোন কোন চাকায় এটা নাও থাকতে পারে আবার কোনটাতে একাধিক সংখ্যকও থাকতে পারে। ব্যালেন্সার থাকুক বা না থাকুক এটা চাকার কোন ত্রুটি নয়
বরং এটা ত্রুটির সমাধান। (আপনার বা হাতের টিকার দাগটা যেমন কোন অসুখের লক্ষণ নয় বরং প্রতিষেধক!) হুইল ব্যালেন্সার যেকোন ভাল টায়ার টিউবের দোকানেই থাকে। কেবলমাত্র তৈরির সময়ই নয় বরং রাস্তায় চলতে চলতে টায়ারের ক্ষয় হয়েও টায়ার ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যেতে
পারে। তখন এটা পুনরায় চেক করে এডজাস্ট করিয়ে নিতে হয়, অর্থাৎ আবার প্রয়োজন মত ওয়েট লাগিয়ে নেয়া যায়। সাধারণত হুইল রোটেশন (৫/৬ হাজার কিলোমিটার) করার সময় ব্যালেন্সিং করিয়ে নেয়া উত্তম।
আপনার বাইক/গাড়ির যত্ন নিন।
ভাল থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

No comments:
Post a Comment