একটা সময় চটকদার বিজ্ঞাপন এবং পেইড রিভিউ দেখে নামি ব্রান্ডের দামি চেইন লুব ইউজ করেছিলাম বেশ কিছুদিন।
না যেতেই চেইন শুকিয়ে আবার আগের মত
খুজতে থাকলাম এই সমস্যার কারন এবং সমাধান।
কারন খুজতে গিয়ে যা পেলাম তা হলো, আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং পরিবেশ। অর্থাৎ আমাদের দেশে আমরা অতিরিক্ত ধুলাবালিপুর্ন রাস্তায় নিয়মিত বাইক চালাই, সেই সাথে বছরের প্রায় ৩ ভাগের একভাগ থাকে কাদাবৃস্টি। তাই চেইন লুব কোনোভাবেই ভালো কভারেজ দিতে পারেনা।
সমাধান হিসেবে ইঞ্জিন অয়েল এবং গিয়ার অয়েল ইউজ করলাম এবং আবারো অবাক হলাম চেইন লুব হিসেবে গিয়ার অয়েলের পার্ফমেন্স দেখে।
অনেক দীর্ঘ সময় ধরে কভারেজ দিতে সক্ষম গিয়ার অয়েল। দামও অনেক কম।
ধুলাবালি কাদাবৃস্টি যাই হোক গিয়ার অয়েল দিয়ে একবার চেইন লুব করে নিলে কমপক্ষে ৪০০-৫০০ কিলো খুব সুন্দর ভাবে চলে। প্রচুর পিচ্ছিল হওয়ায় চেইন স্প্রকেটের ফ্রিকশন অনেক কমে যায়, ফলে চেইনের লাইফস্প্যান বেড়ে যায়। ভারী হবার কারনে সহজে চেইন শুকিয়ে যায় না। লুব্রিসিটি ধরে রাখে দীর্ঘ সময় ধরে। চেইনের স্মুথ অপারেশনের কারনে বাইকের মাইলেজও সামান্য বাড়ে।
আরো অবাক করা ব্যাপার হলো শুধু আমি না, হাজার হাজার বাইকারের অভিজ্ঞতাও ঠিক আমার মত এবং তারাও দামী দামী চেইন লুব কিনে ধরা খেয়ে পরে বিকল্প হিসেবে গিয়ার অয়েল ব্যাবহার করে অনেক ভালো রেজাল্ট পাচ্ছেন।
দামী চেইন লুব খারাপ সেটা কিন্ত বলছি না, চেইনলুব অবশ্যই ভালো পার্ফমেন্স দেয় তবে যেখানে ধুলোবালি, কাদা নেই কেবল সেই সমস্ত যায়গায়। যেমন ধরুন ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের মত দেশে।
ব্রান্ড ভেদে ১ লিটার ৯০ অথবা ১৪০ গ্রেডের গিয়ার অয়েলের দাম ২৫০-৩০০ টাকার মধ্যেই৷
এক লিটার গিয়ার অয়েল দিয়ে প্রায় ৪০ বারের বেশি চেইন লুব করা সম্ভব।
অর্থাৎ দেড় থেকে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার চলার জন্য চেইন লুব বাবদ খরচ করতে হচ্ছে মাত্র আড়াইশো টাকা।
এবার নিজেই সিদ্ধান্ত নিন চেইন স্প্রকেট থেকে বেস্ট পার্ফমেন্স পেতে চেইনের যত্নে আপনি কোনটা বেছে নেবেন??
বেশি দামী কম কার্যকরী চেইনলুব নাকি বেশি কার্যকরী সস্তা গিয়ার অয়েল?
লেখাঃ Admin, Bike Doctor BD.

No comments:
Post a Comment