১৬৫ সিসি লিমিটের দেশে চলে এসেছে ২৫০ সিসির বাইক।
শুরু হয়েছে নানান জল্পনা কল্পনা, আলোচনা সমালোচনা, তর্ক বিতর্ক, ক্ষেত্রবিশেষে মারামারি !!
আসলে বাইক নিয়ে বাইকাররা এক্সাইটেড থাকবে এটাই স্বাভাবিক৷ তাছাড়া আমরা জাতি হিসেবে অনেক উৎসাহি এবং একইসাথে আবেগপ্রবণ। আর এই আবেগের জায়গাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
এই দুর্বলতার কারনে আমরা বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত ঠকে যাচ্ছি। আমরা জানিই না অথবা যাচাইও করতে চাই না কোন বাইকের দাম কেমন হওয়া উচিত?
কোন ব্রান্ডের বাইকের সার্ভিস কেমন হওয়া উচিত? অথবা আমি যে টাকাটা খরচ করছি সেটার বিপরীতে আসলে কতটুকু কোয়ালিটি বা সার্ভিস পেলাম?
আমাদের এই ঠকে যাওয়ার পেছনে বা ভুল বাইক
কিনে ফেলার পেছনে বড় একটা প্রতিবন্ধকতা হলো
পেইড রিভিউ বা বায়াসড রিভিউ।
ফেইক রিভিউর কারনে অনেকেই মিসগাইডেড হয়ে
বাইক কিনে ফেলি আর শেষে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়।
তবে যদি একটু হিসাব করে যুক্তিসঙ্গত ভাবে চিন্তা করে আমরা পয়সা খরচ করি তাহলে কিন্ত সহজেই ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বুঝে নিতে পারি। আমাদের পাশের দেশেও এই প্র্যাকটিসটা অনেক বেশি হয় তাই সেখানের ম্যানুফ্যাকচারার সবসময় চেস্টা করে ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট তৈরি করার। কারন ওখানে আপনি কেন্দে মরে গেলেও কেউ দেড় টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনবে না।
আমাদের দেশেও এমন একটা ব্যাপার শুরু হয়েছিলো, যখন দেশে ৬ লাখ টাকা প্রাইস রেঞ্জে ১২৫ সিসি বাইক আসলো তখন।
নিঃসন্দেহে বাইকগুলো প্রিমিয়াম ছিলো কিন্ত কেনার জন্য তেমন কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলো না, কারন এর চেয়ে কম প্রাইস রেঞ্জে বিকল্প বেটার অপশন মার্কেটে এভেইলেবল ছিলো।
বর্তমান সিনারিওটা আবারও সেরকম হয়ে গেছে।
ধরুন ন্যাকেড স্পোর্টস সিরিজের MT15 অথবা 150cc সেগ্মেন্টের ৫-৬ লাখ টাকা প্রাইস রেঞ্জের স্পোর্টস বাইক অথবা স্কুটার এবং বিপরীত পাশে প্রায় অর্ধেক দামের 250 সিসি সেগমেন্টের বাইক।
কোনটার দিকে মানুষ বেশি ঝুকবে?
যেকোন সুস্থ স্বাভাবিক বুদ্ধিমান, আনবায়াসড এবং স্মার্ট মানুষ N250 বেছে নেবে। ওভারপ্রাইসড ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বাইক থেকে অনেকেই লো বাজেট 250cc তে শিফট করবে।
তাছাড়া এন্ট্রি লেভেলের 250cc হলেও Pulsar N250 বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি, হ্যান্ডেলিং, কম্ফোর্ট, ব্রেকিং, হেডলাইট, সাসপেনশন সহ প্রতিটা ডিপার্টমেন্টেই খুব ভালো কিছু করার ট্রাই করা হয়েছে। আসলে বাজাজ ট্রাই করছে কমদামে বেটার স্পেক দিয়ে মার্কেট ধরার।
এতে ন্যায্যদামে ভালো প্রোডাক্ট পেলে লাভবান হবে বাইকাররা
সামনে অন্যান্য ব্রান্ডও ভালো ভালো অনেক অপশন নিয়ে বাজারে আসবে, তখন বাইকাররাও আরো অনেক স্বাধীনতা পাবে অনেক অপশন থেকে বাজেট মিলিয়ে পছন্দের সেরা বাইকটা বেছে নেয়ার। তবে সেটা সম্ভব হবে যদি আমরা বাইকের ব্যাপারে নিজেরা নলেজ গ্যাদার করতে পারি, আরেকটু স্মার্ট হই তবেই।
আপনাদের কি মনে হয়? কমেন্টে জানাবেন।

No comments:
Post a Comment