কি কারনে বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ফুটো হয়ে যাবে?

রাস্তায় বাইক চালাচ্ছেন। 

হঠাত বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ফুটো হয়ে পেট্রোল চুইয়ে পড়লো গরম ইঞ্জিনের উপর। এতেই ধরে যেতে পারে আগুন।

অথবা ট্যাংক ফুল করে তেল ভরে রাখলেন, পরের দিন কিছুদুর না যেতেই ফুরিয়ে গেলো তেল। কারন ট্যাংক লিক হয়ে সব তেল পড়ে গেছে রাস্তায়। 

এমন ঘটনা হয়তো আপনার বা আপনার বাইকার বন্ধুদের সাথে হয়েছে। 

কিন্ত কেন এমন হলো? সমাধান কি?


বাইকের ফুয়েল ট্যাংক মেটালের তৈরি এবং মেটালে রাস্ট বা মরিচা পড়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।


যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি বাইক ব্যাবহার করছেন তারা হয়তো বাইকে মরিচা পড়ার সাথে পরিচিত। 

বিভিন্ন কারনে বাইকের নানান অংশে মরিচা পড়তে দেখে থাকবেন ৷ 

তবে যদি দেখেন প্রায় নতুন বাইকেই যত্ন নেবার পরেও ফ্রিকোয়েন্টলি রাস্ট আসছে তাহলে বুঝতে হবে বাইকের মেটাল এবং পেইন্ট কোয়ালিটি অত্যন্ত নিম্নমানের।

তাই নতুন বাইক কেনার সময় ট্যাংকের মুখ খুলে চেক করে নেবেন ভেতরে কোনো মরিচার অস্তিত্ব আছে কিনা।


এছাড়াও অনেক কারনে বাইকের বিভিন্ন অংশে মরিচা পড়তে পারে, যেমন


⚠️ বাইক ধোয়ার পর অথবা বৃষ্টিতে ভেজার পর ভালোভাবে বাইক এয়ার প্রেশার দিয়ে না শুকালে মেটাল পার্টগুলোতে মরিচা ধরার সম্ভাবনা থাকে।


⚠️ যারা সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিয়মিত বাইক চালান লবনাক্ত আবহাওয়ার কারনেও তাদের বাইকে মরিচা পড়ার প্রবনতা দেখা যায়।


⚠️ অনেকে নিয়মিত খুব অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে বাইক চালান, ট্যাংক ফুল করেন না।এতেও ট্যাংকের ফাকা জায়গায় রাস্ট পড়তে পারে।


⚠️ তেলে ভেজাল বা জলীয় মিশ্রনের কারনেও ফুয়েল ট্যাংকের ভিতরে মরিচা পড়তে পারে। লম্বা সময় মরিচা পরিস্কার

করা না হলে সেটা বাড়তে বাড়তে আস্তে আস্তে এক সময় মেটালের ফুয়েল ট্যাংকে  ছিদ্র বা লিকেজ সৃষ্টি করতে পারে। 


⚠️ চলন্ত বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ছিদ্র হয়ে যদি তেল গরম ইঞ্জিনের উপর পড়ে তাহলে বাইকে আগুন ধরার মত ঝুকি থাকে। তাই বাইকে মরিচা ধরার বিষয়টাকে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই। 



তাহলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে করনীয় কি?


✅ কিছুমাস পরপর অথবা যখন বাইক সার্ভিসিং করান তখন বাইকের বডিপার্টস গুলো খোলা হয়, সেই সময় খুব ভালো করে ফুয়েল ট্যাংকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরিক্ষা করে নেবেন কোনো মরিচা আছে কিনা।

সেই সাথে ভিতর বাহির ভালো করে পরিস্কার করিয়ে নেবেন।


✅ বাইক ওয়াশ করার পর ভালোভাবে এয়ার প্রেশার দিয়ে বাইকের সকল অংশ শুকিয়ে নেবেন।

প্রয়োজনে মরিচারোধী WD40 স্প্রে ব্যাবহার করতে পারেন। অনেক সার্ভিস সেন্টারে কেরোসিন বা ডিজেল দিয়ে স্প্রে করে দেয় এতেও মরিচা পড়ার সম্ভাবনা কমে আসে।


✅ মরিচা পড়া অংশ চোখে পড়লে সেই স্থান  ভালোভাবে পরিস্কার করে পেইন্ট করিয়ে নিতে হবে।


✅ বাইক বৃস্টিতে ভেজার পরেও এয়ার প্রেশার বা ব্লোয়ার দিয়ে বাইক শুকিয়ে নেয়ার চেস্টা করবেন। 


✅ বাইক গ্যারেজ থেকে বের করার আগে বাইক রাখার স্থানটিতে একবার চোখ বুলিয়ে নেবেন, এতে ফুয়েল লিকেজ থাকলে মাটিতে পড়ে থাকা তেল দেখে সেটা সহজেই ধরতে পারবেন। 


✅ চলন্ত অবস্থায় যদি তেলের গন্ধ পান তাহলে বাইক থামিয়ে চেক করবেন কোনো লিকেজ আছে কিনা?


✅ লিকেজের কারনে যদি চলন্ত অবস্থায় তেল পড়তে থাকে তাহলে তৎক্ষনাৎ বাইক থামিয়ে লিকেজ খুজে বের করার চেস্টা করবেন, এবং লিকেজ থাকলে সেটা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য সাবান ব্যাবহার করতে পারেন। অথবা M-Seal দিয়েও ইন্সট্যান্ট লিকেজ রিপেয়ার করা সম্ভব। তবে লিকেজের ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ট্যাংক খুলে পার্মানেন্টলি লিকেজ রিপেয়ার করিয়ে নিতে হবে। 

✅ দীর্ঘদিন বাইক ব্যাবহার করা না হলে অবশ্যই বাইকের ট্যাংক ফুল করে রাখবেন, এতে মরিচা পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। 

✅ অতিরিক্ত মরিচার কারনে ট্যাংক রিপেয়ারের অযোগ্য মনে হলে ফুয়েল ট্যাংক পরিবর্তন করাই উত্তম সমাধান। 


ভালো থাকুক আপনার বাইক। হ্যাপি বাইকিং। 

ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ Bike Doctor BD


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ 

এডমিন, Bike Doctor BD


No comments:

Post a Comment