সুজুকি মোটরবাইকের প্রাইস আপডেট

পরিবর্তিত  হলো  সকল সুজুকি বাইকের দাম। 


জনপ্রিয়তার দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারে বেশ শক্ত অবস্থানে আছে জাপানিজ  ব্রান্ড  Suzuki.

নতুন প্রজন্মের তরুন বাইকারদের কাছে সুজুকির বাইকগুলো বেশি আকর্ষণীয়। 
এর মুল কারন, ডিজাইন, ফিচার, স্টাইলিং, ইঞ্জিন পাওয়ার, ব্রেকিং কোন দিক থেকেই সুজুকির বাইকগুলোতে কোনো কমতি নেই। 

সেই ২০১৬ সালে দেশে ১৫৫ সিসির জিক্সার বাইকটি এভেইলেবল হবার পর থেকে সুজুকির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
সুজুকিও তাদের প্রতি বাইকারদের এই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে বাজারে নিয়ে এসেছে নিত্যনতুন ফিচার আর স্টাইলিশ নতুন নতুন মডেলের বাইক। 
এছাড়া সুজুকির লাইন আপে মিডরেঞ্জ সেগমেন্টে প্রচুর অপশন রয়েছে যেটা অন্য কোনো ব্রান্ডের ক্ষেত্রে নেই। 

কেউ যদি মিডরেঞ্জ বাজেট নিয়ে কোনো শোরুমে ঢুকে অন্তত বাজেটের জন্য ফিরে আসার কোনো সুযোগ রাখেনি সুজুকি।

এক্সাইটিং সব কালার ভেরিয়েন্ট তো আছেই, তার উপর মনোটোন, ক্লাসিক, ম্যাটপ্লাস, এফ আই, ডিস্ক, এবিএসের মত নানা ফিচারের বিশাল সমাহার রয়েছে তাদের ৷ যেগুলো থেকে একজন বাইকার তার চাহিদা এবং বাজেট অনুযায়ী ইচ্ছেমত  পছন্দের বাইকটা বেছে নিতে পারে। 

তাছাড়া সার্ভিস নিয়েও সুজুকি বেশ সচেতন। বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে তারা ইনিশিয়েট করে থাকে ফ্রি সার্ভিস ক্যাম্প। 

বর্তমান সময়ে অস্থিতিশীল বাজারে সুজুকির বাইকগুলোর দাম কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। যা পহেলা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। 
চলুন দেখে নেই সুজুকির মোস্ট পপুলার বাইকগুলোর বর্তমান দাম কত..

Hayate EP - BDT 118,000/-

Gixxer Monotone - BDT 205,950/-

Gixxer Classic Plus - BDT 209,950/-

Gixxer Classic Matt - BDT 209,950/-

Gixxer Carb-Disc - BDT 237,950/-

Gixxer Fi ABS - BDT 279,950/-

Gixxer Fi Disc - BDT 249,950/-

Gixxer SF Fi ABS - BDT 349,950/-

Gixxer SF Fi Disc - BDT 319,950/-

Gixxer SF Matt Plus - BDT 359,950/-

GSX 125 - BDT 141,950/

GSX R Dual Channel ABS - BDT 465,950/

Access Fi 125 - BDT 205,000/-

প্রাইস আপডেট বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ । 
ফেসবুকে আমাদের ফলো করুন Bike Doctor BD



বান্দরবান, থানচি, রেমাক্রি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

হঠাৎ করেই রাতের বেলা বিশালের ফোন কল!!
ভাইব্রাদারের সাডেন প্লান, টুরে যাবে। 

জিজ্ঞেস করলাম কোথায়? 
বললো চলেন ভাই, বান্দরবান, থানচি আর রেমাক্রি ঘুরে আলীকদম দিয়ে বের হয়ে কক্সবাজার ঘুরে ঢাকায় ব্যাক করবো
অনেকদিন ধরেই টুরে যাওয়া হচ্ছিলো না তাই আর লোভ সামলাতে পারলাম না। ব্যাস, হালকা করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাত ১২ টার দিকে। মিট পয়েন্ট ছিলো হানিফ ফ্লাইওভার। ১ টার মধ্যে সবাই হাজির। 
একটানে চলে গেলাম কুমিল্লা। মিয়ামিতে নাশতা সেরে আবার বাইক স্টার্ট করলাম। 
ভোর হতে হতেই চিটাগং বায়েজিদ লিংক রোডে নিলাম চায়ের বিরতি। 

এরপর রওনা  হলাম বান্দরবানের পথে। 
বান্দরবান পৌছে আগেই বুক করে রাখা কটেজে উঠলাম, ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ সেরে ছোট একটা ভাতঘুম দিলাম।
বিকেলে চলে গেলাম নীলাচল। সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডাবাজি করে বের হলাম রাতের বান্দরবান শহর ঘুরতে। 
ঘুরে ফিরে চলে গেলাম পাহাড়ের উপর তং রিসোর্টে। 





এখানকার ভিউ টা দারুন। শহরের আলো, দূরের পাহাড় আর সাংগু নদির ভিউ একসাথে পেলাম ৷ 
সাথে ছিলো দেশি ফ্রাইড চিকেন, অসম্ভব মজার চিকেন চাওমিন আর কোল্ড ড্রিংক্স। 
সব মিলে একদম জমে গিয়েছিলো। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডাবাজি করে ঘুমিয়ে পড়লাম সবাই। 


সকালে হোটেল চেক আউট করে বান্দরবান থেকে রাস্তার অপরুপ দৃশ্য দেখতে দেখতে ছুটে চললাম থানচির দিকে, পথে পেলাম বৃষ্টির দেখা।


পাহাড়ে বৃষ্টি মানেই পাহাড়ের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া। 

পথে কিছু ব্রেক নিলাম, ঝর্নার ঠান্ডা জলে শীতল হলাম।




বৃষ্টির কারনে রাস্তায় বেশ কিছু জায়গায় গর্ত এবং কাদা পেয়েছি যেটা পার হতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে। 




শেষের পথটুকু বেশ তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে, কারন থানচি বাজার থেকে ৩ টার পর রেমাক্রির দিকে রওনা হওয়া নিষিদ্ধ। 





রেমাক্রিতে যেতে হলে একজন গাইড নেয়া বাধ্যতামূলক।

সাথে নিতে হয়েছে লাইফ জ্যাকেট। 

বোটের ভাড়া ৪৫০০ টাকা করে। 


তো শেষ সময়ে উঠে পড়লাম বোটে আর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা

উচুনিচু পাথুরে পথ বেয়ে শুরু হলো আমাদের রোমাঞ্চকর যাত্রা....

এই পথটা একই সাথে ভীষণ এডভেঞ্চারাস, রোমাঞ্চকর আর ভীষণ শান্তির। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য খুজে পাবেন প্রতি মুহুর্তে। ঘন্টা দেড়েক চলার পর পৌছে গেলাম রেমাক্রি ফলসে।

যদিও সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো, কিন্ত জলপ্রপাতকে আলিংগন করার লোভ সামলাতে পারছিলাম না। বেশ খানিকটা সময় পানিতে গা ডুবিয়ে নিলাম।

রাতের খাবারে ছিলো সাদা ভাত, বন মোরগ, আলুভর্তা আর ডাল। মনে হলো বহুদিন পর অর্গানিক খাবারের স্বাদ পেলাম। গভীর রাত পর্যন্ত জোছনাভরা জলপ্রপাতের সামনে বসে উপভোগ করলাম এক অপার সৌন্দর্যের রাত।







রেমাক্রি জলপ্রপাতে আসতে হলে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে আসতে হয়। থানচি থেকে নদীপথে রেমাক্রির দুরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। যেহেতু বাইক নিয়ে গিয়েছিলাম তাই বাইকগুলো থানচি বাজারে রেখে, থানচি বাজার থেকে বিজিবি পারমিশন নিয়ে একজন গাইড এবং লাইফ জ্যাকেট নিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে চড়ে রওনা হয়েছিলাম রেমাক্রির পথে।

তবে বিকাল ৩ টার আগেই উঠতে হয় ট্রলারে। ট্রলার ভাড়া ৪৫০০ টাকা, লাইফজ্যাকেটের জন্য মাথাপিছু ৫০ টাকা নিয়েছিলো।




যাওয়ার পথে স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়েছে, তাই সময় কিছুটা বেশি লেগেছিলো তবে পুরো সময়টা ছিলো এডভেঞ্চারে ভরা। 

যাত্রাপথে সাংগু নদীর দুপাশের ল্যান্ডস্কেপ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এ পথেই পেয়েছি পদ্মমুখ, তিন্দু, রাজাপাথর আর বড় পাথর। 


রেমাক্রি ফলসের উচ্চতা খুব বেশি না, তবে এটা বেশ চওড়া।

সকালের নাশতায় ডিম খিচুড়ি খেলাম। 

সাধারণ খিচুড়ির অসাধারণ স্বাদ মুখে লেগে থাকবে অনেকদিন....


ফাহিম ভাই, রিয়াদ ভাই, অন্তর, সজীব ভাই, বিশাল, অনিক, অতনু, আকাশ, আর দুলাভাই সবাই মিলে যে অসাধারণ কিছু সময় কাটিয়েছি তার জন্য সবার কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ।

কি কি আছে নতুন Fz25 এ?

কম্ফোর্টেবল সীটিং পজিশনের জন্য Yamaha FZ সিরিজের নাম মোটামুটি উপরের দিকেই থাকে। 

মুলত আপরাইট সিটিং পজিশন ভালো ব্যালেন্সিং এবং ভালো সাসপেনশনের কম্বিনেশনের কারনেই FZ সিরিজের বাইকগুলো কম্ফোর্টেবল হয়।

ইয়ামাহা মোটর ইন্ডিয়া ২৫০ সিসি সেগমেন্টে FZ25 বাইকটি লঞ্চ করে ২০১৭ সালে। 
বাইকটিতে ছিলো ২৪৯ সিসির একটি  এয়ার কুলড  
টু ভালভ সিংগেল সিলিন্ডার   ইঞ্জিন যা ২০.৮ বিএইচপি এবং ২০.১ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারতো । 
এয়ার কুলিং ইঞ্জিন হলেও কুলিং সিস্টেমকে আরেকটু বেটার করার জন্য পাশাপাশি দেয়া হয়েছিলো অয়েল কুলার। 
ব্লু কোর টেকনোলজি থাকার কারনে ইঞ্জিন ছিলো বেশ স্মুথ এবং বাইকটি মোটামুটি ৩০-৩৫ কিমি পার লিটার মাইলেজ দিতো যা মোটামুটি  ডিসেন্ট মাইলেজ হিসেবেই ধরা যায়। 
বাইকের ওজন ১৫৩ কেজি হওয়ায় যেকোনো ধরনের রাইডার একে সহজেই হ্যান্ডেল করতে পারে। 
৫ গিয়ারের এই বাইকটির টপ স্পীড ছিলো 
১৩৪ কিমি /প্রতি ঘন্টার আশেপাশে।

বাইকটিতে আছে ফুললি ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার,
টেলিস্কোপিক ফর্ক, 7 step এডজাস্টেবল মনোশক,
 LED হেডলাইট এবং টেইল লাইট। সামনে ১০০ এবং পিছনে ইউজ করা হয়েছে ১৪০ সেকশনের টায়ার। 

২০১৭ সালে এই বাইকটি ইন্ডিয়ার বাজারে লঞ্চ হবার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ইঞ্জিন সংক্রান্ত কিছু ইস্যু আসা শুরু করে, যার মধ্য অন্যতম ছিলো ফ্রিকোন্টলি ইঞ্জিন হেডের বোল্ট লুজ হয়ে খুলে যাওয়া। প্রায় সব ইউজারের একই রকম সমস্যা হবার কারনে ইয়ামাহা মোটর ইন্ডিয়া তাদের বিক্রি করা বাইকগুলো Recall করে এবং বিনামূল্যে সমস্যাগুলো সমাধান করে দেয় । 

১ লক্ষ ৩০ হাজার রুপির প্রাইস ট্যাগ নিয়ে লঞ্চ হয়েছিলো Yamaha FZ25. সেই সময়ে এই দামে এই বাইকের স্পেক এবং ফিচার মোটামুটি মানানসই ছিলো। 

সময় পাল্টেছে, লঞ্চিং এর পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৮ বছর। 
২৫০ সিসি সেগমেন্টে যুক্ত হয়েছে অনেক কম্পিটিটর, কিন্ত FZ25 বাইকে আসেনি তেমন কোনো পরিবর্তন। যুক্ত হয়নি উল্লেখযোগ্য কোনো ফিচার। 
২০২৪ সালের FZ25 বাইকে কিছু নতুন কালার ভ্যারিয়েন্ট এসেছে আর LED হেডলাইটকে রিপ্লেস করা হয়েছে LED Projection হেডলাইট দিয়ে। ব্যাস, এইটুকুই
সেই সাথে ইন্ডিয়াতে BS6 ইঞ্জিন বাধ্যতামূলক হওয়ায় নতুন ভার্সনের ইঞ্জিনের পাওয়ার আউটপুট আগের চেয়ে আরো কিছুটা কম ফিল হবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে। 
তার উপর দাম প্রায় ৭০ হাজার রুপি বেড়ে দুই লাখ রুপির ঘর পেরিয়ে গেছে । 

অন্যদিকে এর প্রচুর কম্পিটিটর বাজারে এখন এভেইলেবল, যারা অনেক এডভান্সড স্পেক, এডভান্সড ফিচার, ফ্রেশ নিউ ট্রেন্ডি ডিজাইন এবং রিজনেবল প্রাইস অফার করছে।
সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে ইয়ামাহা FZ প্রেমিদের কাছে 
FZ25 হয়ে উঠছে হতাশার আরেক নাম। 

আগামি ব্লগে আলোচনা করবো এই বাইকের কম্পিটিটদের নিয়ে,জানাতে চেস্টা করবো কি কি ফিচার আছে সেই বাইকগুলোতে, দাম কত এবং কবে বাংলাদেশের বাজারে এভেইলেবল হবে?

FZ25 নিয়ে আপনার মতামত এবং জিজ্ঞাসা কমেন্টে জানাতে পারেন । পোস্টটি ইনফরমেটিভ মনে হলে শেয়ার করতে পারেন বন্ধুদের সাথে।