চমকে দিলো Hero! কি আছে Xtreme 125R এ?

Hero Motocorp এর নতুন চমক

Hero Xtreme 125R.


৯৯ হাজার রুপি প্রাইস ট্যাগ নিয়ে ইন্ডিয়াতে লঞ্চ হয়েছিলো Xtreme 125R.

ইতিমধ্যে Hero Bangladesh এই বাইকটি নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের বাজারে ।  

আশা করা যাচ্ছে খুব শিঘ্রই বাইকটি লঞ্চ করা হবে। হিরো বাংলাদেশ জানিয়েছে তারা দেশের বাইক প্রেমিদের কথা মাথায় রেখে খুব রিজনেবল প্রাইসে বাইকটি বাংলাদেশের বাজারে লঞ্চ করতে ইচ্ছুক।


দুর্দান্ত স্ট্রীট ফাইটার লুকের এই বাইকটতে আছে ১২৫ সিসির All New Engine. 
পাওয়ার আউটপুট 11.4 bhp এবং যা 10.5 nm টর্ক উৎপন্ন করার ক্যাপাবিলিটি রাখে। 
বেটার স্ট্যাবিলিটি এনিশিওর করার জন্য দেয়া হয়েছে 120 সেকশনের রিয়ার ওয়াইডার টায়ার। 

ফুল ডিজিটাল কন্সোল এবং All LED লাইটস থাকছে বাইকটিতে৷ 


নেক্সট লেভেল কম্ফোর্ট প্রোভাইড করার জন্য ইউজ করা হয়েছে বিশ্বখ্যাত SHOWA ব্রান্ডের মনোশক সাসপেনশন। 

সেফটি ফিচার হিসেবে এড করা হয়েছে IBS এবং single channel ABS যা ব্রেকিংকে করবে কনফিডেন্ট।


কোম্পানি ক্লেইম করছে ১২৫ সিসির এই বাইকটি 66kmpl মাইলেজ দিতে সক্ষম।



এত ফিচারপ্যাকড আউটস্ট্যান্ডিং লুকের একটা ১২৫ সিসি বাইক যে দামে লঞ্চ করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। 



বাংলাদেশের বাজারে বাইকটি এলে ১২৫ সিসি সেগমেন্টে ঝড় তুলবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Cobalt Blue,

Firestorm Red এবং

Stallion Black এই ৩ টি এক্সাইটিং কালারস্কীমে পাওয়া যাচ্ছে Xtreme 125R


লুক এবং স্পেক ওয়াইজ আপনার কাছে বাইকটি কেমন লাগলো কমেন্টে লিখে জানাবেন।


ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ BIKE DOCTOR BD

৮ টি ছোট কাজ দেবে সর্বোচ্চ মাইলেজ

তেলের উচ্চমুল্য সকল বাইকারেরই চিন্তার কারণ। 

কেননা খরচ বাচিয়ে সাশ্রয়ী চলাফেরার জন্যই বেশিরভাগ মানুষ মোটরবাইক ব্যাবহার করে। 

কিন্ত মোটরবাইক যদি ভালো মাইলেজ না দেয় তাহলে পকেটের উপর চাপ পড়ে। তাই আজকে আলোচনা করবো এমন কিছু কাজ এবং নিয়ম নিয়ে যা ফলো করলে আপনার বাইক আপনাকে দেবে সর্বোচ্চ মাইলেজ হোক সেটা fi অথবা কার্বোরেটর ইঞ্জিনের বাইক৷ 


বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বাইকের বিক্রি বাড়াতে

fi ইঞ্জিনের মাইলেজ বেশি, কার্বোরেটর ইঞ্জিনের মাইলেজ কম এরকম একটা ভুল ধারনা প্রচার করে থাকে যা পুরোপুরি সত্য নয়। 

fi অবশ্যই উন্নত টেকনোলজি, এতে ফুয়েল সাপ্লাই তুলনামূলক কিছুটা বেশি নিখুঁত হয় ফলে ফুয়েলের অপচয় কিছুটা কমে আসে। ইঞ্জিন ঠান্ডা অবস্থায় দ্রুত স্টার্ট নিতে হেল্প করে। এমন ছোট ছোট কিছু বাড়তি সুবিধা fi ইঞ্জিনে পাওয়া যায় তবে এফ আই ইঞ্জিন মেইনটেইন করা, ক্লিন করা বেশি সময়সাপেক্ষ, এডভান্সড টুল প্রয়োজন হয় এবং ব্যায়বহুল। 


তাছাড়া তেলের মান ভালো না হলে fi ইঞ্জিন যথেষ্ট ভোগান্তির কারন হয় ৷ ন্যদিকে কার্বোরেটর ইঞ্জিনে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো মেইন্টেনেন্স লাগেনা, ক্লিনিং এ কোনো এডভান্সড টুল লাগেনা, এমনকি পুরো কার্বোরেটর নতুন লাগাতেও fi সিস্টেমের ৩ ভাগের ১ ভাগ খরচও হয়না। 

মনে রাখবেন, fi এবং কার্বোরেটর দুটো আলাদা ফুয়েল সাপ্লায়ার সিস্টেম মাত্র৷ পার্ফমেন্স এর দিক থেকে আকাশ পাতাল পার্থক্য নেই৷ 


যাই হোক, মুল আলোচনায় আসি, 

মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ মাইলেজ পেতে চাইলে নিচের ১০ টি কার্যকরী টিপস ফলো করতে পারেন।


১। নিয়মিত আপনার মোটর সাইকেলের চাকা  পরীক্ষা করে দেখবেন যে চাকাগুলি সহজভাবে ঘুরছে কিনা। চাকা জ্যাম হয়ে যাওয়ার একটি সাধারণ  কারণ হল ব্রেক খুব বেশি টাইট হয়ে যাওয়া। এছাড়া, চাকার বেয়ারিং জ্যাম হয়ে গেলেও আপনার মোটর সাইকেলের চাকা ঘুরতে কস্ট হবে। চাকার জ্যামের কারনে চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিনে বেশী চাপ পরে যার ফলে আপনার বাইকের মাইলেজ কমে যেতে পারে। চাকার জ্যামকে কখনই অবহেলা করবেন না। জ্যামের কারন খুজে বের করে দ্রুত সমাধান করুন। 


চাকার জ্যাম হওয়ার  আরেক টি প্রধান কারণ হল চেইন অতিমাত্রায় টাইট থাকা এবং চেইন শুকনো থাকা। চেইনে যদি অতিরিক্ত ময়লা থাকে আর নিয়মিত লুব্রিকেন্ট করা না হয় তবে আপনার বাইকের মাইলেজ কমে যেতে পারে । তাই চেইন নির্দিষ্ট মাত্রায় টাইট রাখুন যেন হাফ থেকে এক ইঞ্চির মত স্ল্যাক লেভেল থাকে। নিয়মিত চেইন পরিস্কার করে গিয়ার অয়েল দিয়ে লুব করে রাখতে পারেন।


২। বাইকের পিস্টন-রিং দুর্বল হয়ে গেলে সেটাও আপনার মাইলেজ কমিয়ে দেয়ার কারন হতে পারে। পিস্টন-রিং দুর্বল হলে ইঞ্জিন ওয়েল পিস্টন চেম্বারে প্রবেশ করে আর পেট্রলের ইগ্নাইটেবিলিটি কমিয়ে দেয় ফলে মাইলেজ কমে যায়। 


৩। ভালভ ক্লিয়ারেন্স আপনার মোটর সাইকেলের মাইলেজ ও শক্তি কমিয়ে আনার সাথে সরাসরি কানেক্টেড। অতিরিক্ত টাইট ভালভ ইঞ্জিনের শব্দকে হ্রাস করে কিন্তু এর প্রভাব পড়ে টাইমিং চেইনের উপর । এর ফলে ইঞ্জিন ভালোভাবে ঘুরতে পারেনা। এটা, ইঞ্জিনের জ্বালানী খরচ বাড়িয়ে দেয় আর সাথে সাথে টাইমিং চেইনটাও দ্রুত নস্ট হয়।

একইভাবে বেশি ভালভ ক্লিয়ারেন্স ও মাইলেজের জন্য ভাল নয় । তাই, ভালব ক্লিয়ারেন্স যত নিখুঁত হবে আপনার বাইকের পারফর্মেন্স তত ভালো হবে এবং ভালো মাইলেজ পেতে হেল্প করবে। অবশ্যই অবশ্যই ফিলার গজ ব্যাবহার করে ভালভ ক্লিয়ারেন্স এডজাস্ট করতে হবে। 


৪। ইউজার ম্যানুয়াল ফলো করে ম্যানুফ্যাকচারার নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে বাইক থেকে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়।


৫। ভাল মানের স্পার্ক প্লাগ ব্যবহার করলে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়। প্রতি ৮-১০ হাজার কিমি পর পর প্লাগ চেঞ্জ করে ফেললে সবচেয়ে ভালো। 


৬। দুই সপ্তাহ পর পর টায়ার প্রেশার চেক করুন এবং রিকমেন্ডেশন অনুযায়ী উভয় চাকায় টায়ার প্রেশার মেইনটেইন করুন। 


৭। স্টক সাইজের চেয়ে মোটা এবং ভারি টায়ার ব্যাবহার করলে ফ্রিকশন বাড়ে এবং ব্রেকিং কিছুটা বেটার হয় কিন্ত বাইকের মাইলেজে এফেক্ট ফেলে।


৮। ভালো মাইলেজ পেতে চাইলে এয়ার ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা উচিত আর অতিরিক্ত ময়লা হলে রিপ্লেস করতে হবে। ময়লা এয়ার ফিল্টার মোটর সাইকেলের মাইলেজ কমিয়ে দেয়।


পাশাপাশি ভালো মানের ফুয়েল ব্যাবহার, গ্রাজুয়ালি স্পিডিং করা, স্পিড অনুযায়ী সঠিক গিয়ারে বাইক চালানো, এবং ইঞ্জিন ব্রেক ব্যাবহারের অভ্যাস আপনার বাইকের মাইলেজ বাড়াতে পারে।


আপনার বাইক কত মাইলেজ দিচ্ছে তা কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। হ্যাপি বাইকিং। 


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ 

ADMIN, BIKE DOCTOR BD.

সিসি লিমিট বাড়তেই শুরু হলো তুমুল মারামারি

 ১৬৫ সিসি লিমিটের দেশে চলে এসেছে ২৫০ সিসির বাইক।

শুরু হয়েছে নানান জল্পনা কল্পনা, আলোচনা সমালোচনা, তর্ক বিতর্ক, ক্ষেত্রবিশেষে মারামারি !! 

আসলে বাইক নিয়ে বাইকাররা এক্সাইটেড থাকবে এটাই স্বাভাবিক৷ তাছাড়া আমরা জাতি হিসেবে অনেক উৎসাহি এবং একইসাথে আবেগপ্রবণ। আর এই আবেগের জায়গাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। 

এই দুর্বলতার কারনে আমরা বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত ঠকে যাচ্ছি। আমরা জানিই না অথবা যাচাইও করতে চাই না কোন বাইকের দাম কেমন হওয়া উচিত? 

কোন ব্রান্ডের বাইকের সার্ভিস কেমন হওয়া উচিত? অথবা আমি যে টাকাটা খরচ করছি সেটার বিপরীতে আসলে কতটুকু কোয়ালিটি বা সার্ভিস পেলাম?


আমাদের এই ঠকে যাওয়ার পেছনে বা ভুল বাইক 

কিনে ফেলার পেছনে বড় একটা প্রতিবন্ধকতা হলো 

পেইড রিভিউ বা বায়াসড রিভিউ। 

ফেইক রিভিউর কারনে অনেকেই মিসগাইডেড হয়ে 

বাইক কিনে ফেলি আর শেষে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় 


তবে যদি একটু হিসাব করে যুক্তিসঙ্গত ভাবে চিন্তা করে আমরা পয়সা খরচ করি তাহলে কিন্ত সহজেই ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বুঝে নিতে পারি। আমাদের পাশের দেশেও এই প্র‍্যাকটিসটা অনেক বেশি হয় তাই সেখানের ম্যানুফ্যাকচারার সবসময় চেস্টা করে ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট তৈরি করার। কারন ওখানে আপনি কেন্দে মরে গেলেও কেউ দেড় টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনবে না। 


আমাদের দেশেও এমন একটা ব্যাপার শুরু হয়েছিলো,  যখন দেশে ৬ লাখ টাকা প্রাইস রেঞ্জে ১২৫ সিসি বাইক আসলো তখন।

নিঃসন্দেহে বাইকগুলো প্রিমিয়াম ছিলো কিন্ত কেনার জন্য তেমন কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলো না, কারন এর চেয়ে কম প্রাইস রেঞ্জে বিকল্প বেটার অপশন মার্কেটে এভেইলেবল ছিলো। 

বর্তমান সিনারিওটা আবারও সেরকম হয়ে গেছে।

ধরুন ন্যাকেড স্পোর্টস সিরিজের MT15 অথবা 150cc সেগ্মেন্টের ৫-৬ লাখ টাকা প্রাইস রেঞ্জের স্পোর্টস বাইক অথবা স্কুটার এবং বিপরীত পাশে প্রায় অর্ধেক দামের  250 সিসি সেগমেন্টের বাইক।

কোনটার দিকে মানুষ বেশি ঝুকবে? 

যেকোন সুস্থ স্বাভাবিক বুদ্ধিমান, আনবায়াসড এবং স্মার্ট মানুষ N250 বেছে নেবে। ওভারপ্রাইসড ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বাইক থেকে অনেকেই লো বাজেট 250cc তে শিফট করবে।

তাছাড়া এন্ট্রি লেভেলের 250cc হলেও Pulsar N250 বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি, হ্যান্ডেলিং, কম্ফোর্ট, ব্রেকিং, হেডলাইট, সাসপেনশন সহ প্রতিটা ডিপার্টমেন্টেই খুব ভালো কিছু করার ট্রাই করা হয়েছে। আসলে বাজাজ ট্রাই করছে কমদামে বেটার স্পেক দিয়ে মার্কেট ধরার।

এতে ন্যায্যদামে ভালো প্রোডাক্ট পেলে লাভবান হবে বাইকাররা 

সামনে অন্যান্য ব্রান্ডও ভালো ভালো অনেক অপশন নিয়ে বাজারে আসবে, তখন বাইকাররাও আরো অনেক স্বাধীনতা পাবে অনেক অপশন থেকে বাজেট মিলিয়ে পছন্দের সেরা বাইকটা বেছে নেয়ার। তবে সেটা সম্ভব হবে যদি আমরা বাইকের ব্যাপারে নিজেরা নলেজ গ্যাদার করতে পারি, আরেকটু স্মার্ট হই তবেই। 

আপনাদের কি মনে হয়? কমেন্টে জানাবেন।