হেলমেট পরিস্কার করা এখন পানির মত সোজা


বাইক চালাতে হলে হেলমেট তো পড়তেই হয়, আর হেলমেট ব্যাবহার করলে মাথার ঘাম আর বাইরের ধুলাবালিতে হেলমেটের ভিতর বাহির সবই নোংরা হয়। প্রয়োজন পড়ে হেলমেট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং জীবানুমুক্ত করার। অনেকেই জানেন না হেলমেট কিভাবে ক্লিন করতে হয়।

তাই চলুন আজকে জেনে নেই হেলমেট পরিস্কার করার নিয়ম।


হেলমেট সাধারণত ২ টা মেথডে ক্লিন করা যায়,

১। সফট ক্লিন এবং

২। ডীপ ক্লিন।


অল্পস্বল্প ময়লা পরিস্কার এবং জীবানুমুক্ত করার জন্য হেলমেট সফট ক্লিন করে নেয়া খুবই সোজা৷

বাজারে কিছু ডিসইনফ্যাক্টিং ফোম স্প্রে পাওয়া যায়। সেই ফোমটা হেলমেটের ইন্টেরিয়র এবং এক্সটেরিয়রে স্প্রে করে কিছুক্ষন রেখে মাইক্রোফাইবার ক্লথ দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিলেই কাজ শেষ।


তবে দীর্ঘদিন ব্যাবহারের পর হেলমেট যখন অতিরিক্ত নোংরা হয় তখন প্রয়োজন পড়ে ডীপ ক্লিন করার। এই পদ্ধতিতে হেলমেট সবচেয়ে ভালো পরিস্কার হয়। 

ধাপগুলি বলে দিচ্ছিঃ 


১। শুরুতেই হেলমেটের ভাইজর এবং প্যাডিং সতর্কতার সাথে খুলে নিন। প্রতিটি সার্টিফাইড হেলমেটে প্যাডিং খোলার সহজ ব্যাবস্থা থাকে। 

এরপর বড় একটা গামলায় হাল্কা গরম অথবা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ডিটারজেন্ট অথবা শ্যাম্পু নিন।

ডিটারজেন্ট ভালো ভাবে পানির সাথে মিশিয়ে ফেনা তৈরি করে নিন। 


২। হেলমেটের প্যাডিং এবং লাইনার   ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন, তারপর প্যাডিং এর যেসব অংশে বেশি ময়লা ধরে ওইসব জাইগায় দাত মাজার নরম ব্রাশ দিয়ে হাল্কা ভাবে ব্রাশ করে পরিস্কার করুন।


৩। এবার আরেকটা গামলায় পরিস্কার পানি নিয়ে তাতে প্যাডিংগুলা কয়েকবার চুবিয়ে ডিটারজেন্টমুক্ত করুন৷ চাইলে পানিতে সামান্য স্যাভলন বা ডেটল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে প্যাডিং জীবানুমুক্ত হবে৷



সবশেষে প্যাডিংগুলা পানি থেকে তুলে সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে রোদে শুকাতে দিন। পানি নিজে থেকেই ঝরে গিয়ে প্যাডিং শুকিয়ে যাবে।


বিশেষ সতর্কতাঃ প্যাডিংগুলা কখনোই ধোয়া কাপড়ের মত করে চিপড়াবেন না কিংবা মোচড়াবেন না। এতে প্যাডিং এর ভিতরে থাকা ফোমগুলো নস্ট হতে পারে।

হেলমেটের প্যাডিং ডীপ ওয়াশ করলে অবশ্যই রোদ্রজ্জল দিনে করার চেস্টা করবেন৷ এতে প্যাডিং দ্রুত শুকাবে।


এক্সটেরিয়র ক্লিন করার জন্য ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে একটুকরো ফোম ডুবিয়ে নিন, তারপর হেলমেটের চারপাশ হালকাভাবে মেজে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।


পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হেলমেট আপনার রাইডিং কে করবে আরো কনফিডেন্ট।

কোন জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন৷ উপকারী মনে হলে বন্ধুদের সাথে পোস্ট টি শেয়ার করুন। 


লেখাঃ ইকবাল আবদুল্লাহ রাজ 

এডমিন Bike Doctor BD

ব্রান্ড ভ্যালুর চক্করে বাড়তি টাকায় ধরা খাচ্ছেন না তো?

বাইক কিনতে গেলে ব্রান্ড ভ্যালুর প্রসংগটা চলেই আসে। 

আর এই ব্রান্ড ভ্যালুর দোহাই দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি মাত্রাতিরিক্ত দাম হাকায়। 


আসলে ব্রান্ড ভ্যালু জিনিসটা কি?? 

এর পেছনে কৃতিত্ব কার? 

কোয়ালিটির বিচারে শত বছর ধরে গড়ে ওঠা একটা রিনোউন জাপানিজ ব্রান্ডের ব্রান্ড ভ্যালুর সাথে সেই ব্রান্ডের থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোতে লোকালি প্রোডাকশন হওয়া বাইকের মিল কতটুকু?

ভ্যালুর কথা চিন্তা করে বাড়তি টাকায় একটা বাইক কিনে ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট পেলাম নাকি লোগো কিনে আনলাম? কম্পিটিশনের বাজারে বিষয়গুলো ইগনোর করার সুযোগ নেই। 


সাধারণত, 

একটা মোটরবাইক, কতটা মানসম্মত? 

কতটা ডিউরেবল? কতটা রিলায়েবল?

এভেইলেবিলিটি কেমন? 

ইউজার ফিডব্যাক কতটা ভালো?

মান অনুযায়ী দাম জাস্টিফাইড কিনা?

এইসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ব্রান্ড ভ্যালু গড়ে উঠে এবং একটা ব্রান্ড ওয়েল নোউন এবং স্টাবলিশড হয় । তবে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরিতে কঞ্জিউমার একটা ভাইটাল রোল প্লে করে। তবে ব্রান্ড ভ্যালু একদিনে তৈরি হয়না, বছরের পর বছর ধরে সেরা প্রোডাক্ট এবং সেরা সার্ভিস কোয়ালিটি ধরে রাখার পর অল্প অল্প করে একটা ব্রান্ড বিশ্বস্ততা অর্জন করে। তবে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি হতে যতটা সময় লাগে ভ্যালু নস্ট হতে কিন্ত এত সময় লাগে না৷ তাই প্রতিটা ব্রান্ড ভ্যালু ধরে রাখার জন্য অনেক চেস্টা করে। 

ফানফ্যাক্ট ইজ, প্রোডাকশন কোথায় হচ্ছে সেটা রিয়েলি ইম্পর্ট্যান্ট, ইন্ডিয়ার বাজারে ইন্ডিয়ান লোকাল ব্রান্ডের বাইকের ডিউরেবিলিটি জাপানিজ ব্রান্ডের বাইকের চেয়েও বেটার হতে দেখা যায়। আবার ইন্ডিয়ার চেয়ে জাপানিজ ব্রান্ডের ইন্দো এবং থাই ভার্সনগুলো মাচ বেটার। 

একটা বাইক সম্পর্কে ফিডব্যাক দেয়ার আগে প্রতিটা কাস্টমার বা ইউজারের উচিত সঠিক ফিডব্যাক দেয়া যাতে আপনার দেয়া ফিডব্যাকের কারনে একটা সঠিক প্রোডাক্ট ভ্যালু পায়। এতে আপনার সাথে সাথে অন্যরাও উপকৃত হবে। তাছাড়া বায়াসড বা পেইড রিভিউ এখন আরেক মহামারির নাম।

মনে রাখা উচিত, যদি আপনি অন্ধের মত সামান্য কিছু সুবিধার বিনিময়ে খারাপ জিনিসটাকেও ভালো বলতে থাকেন তাহলে এই চক্রে খুব শীঘ্রই আপনিও পড়বেন এবং ফে*ই*ক বা পেইড রিভিউ/ফিডব্যাক দেখে কোনো বাইক কিনে রাম ধরা খাবেন আর কপাল চাপড়াবেন। হ্যাপি বাইকিং।


Follow BIKE DOCTOR BD

চলবে...

বাংলাদেশে KTM125 ফ্লপ হবার তিন কারন

KTM ব্রান্ডের বাইকগুলো নিয়ে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বেশ ফ্যাসিনেশন থাকলেও অস্ট্রিয়ান ব্রান্ড KTM আমাদের দেশের বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। 

 
KTM এর লাইন আপে লোয়ার সিসি সেগমেন্ট অথবা ১৫০ সিসি সেগমেন্টে কোনো বাইক নাই,  তাই সিসি লিমিটের কারনে KTM125 ছাড়া আর কোনো বাইক বাংলাদেশে এতদিন ঢুকতে পারেনি। এছাড়াও KTM125 আমাদের দেশে ফ্লপ বাইকের তালিকায় জায়গা করে নেয়ার পেছনে আরো বেশ কিছু কারন আছে। 

তবে মোটামুটি ৩টা বড় কারন আমার চোখে ধরা পড়েছে। যদি বাইকের লুক & ফিল, কোয়ালিটি এবং পার্ফমেন্স বিচার করেন তাহলে KTM125 বাইকগুলো একদম টপ লিস্টে থাকবে এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই।


বাইকের টায়ার থেকে শুরু করে, সাস্পেনশন, ব্রেকিং ইকুইপমেন্টস, বডিপার্টস, কন্সোল, ইঞ্জিন পার্টস সহ প্রতিটা পার্টের কোয়ালিটি অনেক অনেক ভালো এবং ডিউরেবল।
নিম্মমানের কোনো পার্টস KTM এর বাইকগুলোতে নাই। মজার ব্যাপার হলো সেইম বাইকের ২০০, ২৫০ এবং ৩৯০ সিসি ভার্সনে যেই ফ্রেম/শ্যাসি, স্পেক এবং ফিচার পাবেন, ১২৫ সিসিতেও অলমোস্ট সেইম ফিচার পাবেন।
শুধু ইঞ্জিন ডিস্প্লেসমেন্টে পার্থক্য থাকবে।


প্রিমিয়াম ১২৫ সিসি হিসেবে পার্ফমেন্স একদম ঠিকঠাক। অর্থাৎ যেমন হওয়া উচিত ঠিক তেমন।
কিছুক্ষেত্রে হেড টু হেড কোয়ালিটি এবং পার্ফমেন্স কম্পেয়ার করলে অন্যান্য প্রিমিয়াম ১৫০ সিসির ঘাম ছুটিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

তাছাড়া ইউরোপিয়ান মার্কেট অনেক সেন্সেটিভ, তাই ওই রিজিয়নকে টার্গেট করে বাইক বানালে কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজের কোনো সুযোগ থাকে না। এই কারনে প্রাইসটাও বেড়ে যায়।


Most Important ফ্যাক্ট,
ইউরোপে ১২৫ সিসি বিগিনারস বাইক হলেও বাংলাদেশের Perspective অনুযায়ী এটা মোটেও কমন পিপলের বাইক না।
খুব ভালো টেকনিক্যাল নলেজ এবং এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে এই বাইক সবাই মেইন্টেইন করতে পারবে না।

খুব ভালো করে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেছি,

বাংলাদেশে KTM জনপ্রিয় না হবার পেছনের বড় ৩ টা কারন রয়েছে,

প্রথমত, KTM125 বাইকের প্রাইস অনেক বেশি। আমাদের দেশে ১২৫ সিসি সেগমেন্টের বাইক কেনার যে কাস্টমার বেজ রয়েছে তাদের এফোর্ডেবিলিটির বাইরে KTM125.
সাধারণত আমাদের দেশে যারা ১০০-১২৫ সিসি বাইক কেনে তাদের বাজেট থাকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। তাদের ১২৫ সিসি বাইক কেনার মুল পারপাসগুলো হলো,

ডেইলি কমিউটিং,
✅ লো মেইন্টেনেন্স এবং
✅ হাই মাইলেজ।

এই বেসিক নীডস ফুলফিল করার জন্য দেড় লাখের মধ্যে প্রচুর ১২৫ সিসি বাইক বাজারে এভেইলেবল। 

দ্বিতীয়ত, প্রপার সার্ভিস সেন্টার এবং স্পেয়ার পার্টসের  অভাব, সেই সাথে স্পেয়ার পার্টস অনেক এক্সপেন্সিভ। এতবড় একটা ব্রান্ডের বিপরীতে ঢাকাসহ সারাদেশে মাত্র ৩টা সার্ভিস সেন্টার যা রীতিমতো হতাশাজনক। রেগুলার মেইন্টেনেন্স স্পেয়ার পার্টস যেমন ব্রেক প্যাড, এয়ার ফিল্টার, অয়েল ফিল্টার, ক্যাবলস, চেইন স্প্রোকেট টাইপের কঞ্জুমেবল পার্টসগুলোর দাম রিজনেবল এটা ভালো দিক এবং প্রতিটা স্পেয়ার পার্টসের লাইফস্প্যান অনেক লং। সমস্যা হলো স্পেয়ার এভেইলেবল না থাকা।

বডিপার্টস সহ অন্যান্য পার্টস একটু বেশিই এক্সপেন্সিভ তবে এগুলোর বিল্ড কোয়ালিটি একটু বেশিই ভালো তাই মেজর এক্সিডেন্ট না হলে সহজে নস্ট হয় না।

KTM বাইকগুলো টেকনোলজিক্যালি প্রচুর এডভান্সড হবার কারনে ওয়েল ট্রেইন্ড প্রপার হ্যান্ড ছাড়া এই বাইক সার্ভিস করা ডিফিকাল্ট। এই ব্যাপারে KTM এর বাংলাদেশী পরিবেশক ভীষণ উদাসীন বলেই মনে হলো। এখানে সিরিয়াসলি অনেক ইম্প্রুভাইজেশন খুব প্রয়োজন। 

তৃতীয়ত, আমাদের দেশে KTM ব্রান্ডটা নতুন ঢুকেছে তাই এর সম্পর্কে আমাদের এওয়ারনেস কম। প্রচার প্রচারনাও কম। তাছাড়া সেইম প্রাইস বা এর চেয়ে কম প্রাইসে বাজারে Honda, Yamaha, Suzuki র মত Well Known ব্রান্ডের ১৫০সিসি স্পোর্টস বা ন্যাকেড স্পোর্টস বাইক এভেইলেবল। সেগুলোর স্পেয়ার/সার্ভিস এভেইলেবল এবং এফোর্ডেবল তাই সেইফ সাইডে থাকতেই মানুষ KTM125 ট্রাই করতে চায় না।

তবে KTM125 বাইকের প্রতিটা ভার্সনেরই রাইড কোয়ালিটি চমৎকার, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই। সামনে হাইয়ার সিসির KTM দেশে রিজনেবল প্রাইস পয়েন্টে এভেইলেবল হলে এবং সার্ভিস স্পেয়ার্স এভেইলেবল এবং এফোর্ডেবল করতে পারলে KTM নিজের শক্ত একটা অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আশা করা যায়।


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ

এডমিন, BIKE DOCTOR BD