১২টি চেক না করে নতুন বাইক কেনা কতটা ঝুকিপূর্ণ

আমরা জানি ইউজড বা সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কিনতে গেলে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

খুব ভালো করে কন্ডিশন চেক করে এবং দেখে শুনে বুঝে না কিনলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 


ঠিক তেমনি নতুন বাইক কিনতে গেলেও দেখে শুনে বুঝে, ভালো করে চেক করে কিনতে হবে। 


ভাবছেন কি যা তা বলছি? নতুন বাইকের আবার চেক কিসের? জি, ঠিকই বলছি। নতুন বাইক কেনার সময় কিছু জিনিস চেক করে নেয়া অত্যন্ত জরুরি, কারনটা ব্যাখ্যা করলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। 


প্রথমত, একটা বাইক যখন ম্যানুফ্যাকচার অর্থাৎ তৈরি করা হয় তখন ১০০ টা বাইকের মধ্যে ১০০ টা বাইকই নিখুঁত হয়না, কারন প্রতিটি বাইক ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টের মেশিনপত্র এবং হিউম্যান হ্যান্ড মাঝে মাঝে সামান্য এরর হতেই পারে। শতকরা ৩ থেকে ৫ পারসেন্ট বাইকে ছোট বড় কিছু ফল্ট থেকেই যায়। 

কোয়ালিটি চেকের সময় বড় ফল্ট ধরা পড়লেও ছোট ছোট ফল্ট অনেক সময় দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এই ফল্টগুলোকে বলা হয় ম্যানুফ্যাকচারিং ফল্ট। 


দ্বিতীয়ত, বাইকগুলো যখন ফ্যাক্টরি থেকে শোরুমে আসে তখন ট্রাক বা পিকাপে ক্যারি করা এবং লোড আনলোডিং এর সময় বিভিন্ন পার্টে ঘষা লাগা, চাপ লাগা, ফেটে যাওয়া, বাকিয়ে যাওয়া এমনকি ভেংগে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। যেগুলো চোখে পড়ে সেগুলো ঠিকঠাক করে দেয়া হয় বাইক ডেলিভারির আগে কিন্ত এখানেও কিছু জিনিস নজর এড়িয়ে যেতে পারে। 


তৃতীয়ত, 

বাইকের রিভিউ করার জন্য, বিজ্ঞাপন বানানোর জন্য বা টেস্ট রাইড দেয়ার জন্য যে নতুন বাইকগুলো ব্যাবহার করা হয় সেই বাইকগুলো কোথায় যায় এই প্রশ্ন হয়তো কখনো আপনার মাথায় আসেনি। সেই ব্যাবহৃত বাইকগুলোও কিন্ত ধুয়ে মুছে অথবা প্রয়োজনীয় পার্টস চেঞ্জ করে আপনার আমার কাছেই সেল করা হয়। যদিও এই ব্যাপারটা কেউ স্বীকার করতে চাইবে না তবে এটা সত্যি। 


তাই, প্রতিটা নতুন বাইক কেনার আগে ভালো করে ইন্সপেকশন করে নেয়া উচিত। যে বিষয়গুলো প্রাথমিক ভাবে চেক করা উচিত তা বলছি…


✅ সবার আগে ট্যাংকের মুখ খুলে উকি দিয়ে দেখবেন ট্যাকের ভিতর মরিচা আছে কিনা। নতুন বাইকের ট্যাংকে জং বা মরিচা থাকার কথা না। যদি মরিচা থাকে সেই বাইক কখনোই কিনবেন না। ট্যাংকের ভিতরের অংশ সাধারণত মরিচারোধী ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়। যদি নতুন বাইকের ট্যাংকের মুখে মরিচা দেখতে পান তাহলে বুঝে নিবেন বাইকটি অত্যন্ত নিম্নমানের মেটাল দিয়ে বানানো হয়েছে। 



✅ চেক করবেন বাইকের বডির বিভিন্ন পার্ট।

কোনো দাগ বা ঘষা আছে কিনা। 


✅ চেক করবেন বাইকের চেইন। 

ভালো ব্রান্ডের বাইকের সাথে ভালো ব্রান্ডের চেইন আসে। যেমন রোলন, DID ইত্যাদি ব্রান্ডের চেইন। এবং চেইনের প্রতিটি লিংকে খোদাই করে ব্রান্ডের নাম লেখা থাকবে। যদি দেখেন চেইনের গায়ে কোনো লেখা নেই তাহলে বুঝতে হবে নিম্নমানের সস্তা এবং ননব্রান্ড চেইন সেটা। এইসব চেইন বেশিদিন টিকবেনা, তাছাড়া ছিড়ে যাওয়া, মরিচা ধরার সম্ভাবনা প্রবল। 


✅ চেক করে দেখবেন টায়ারের ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট। নতুন বাইকের টায়ার রিসেন্টলি তৈরি হয়েছে এরকম হওয়া উচিত। যদি দেখেন টায়ারের বয়স দীর্ঘদিন হয়ে গেছে সেই টায়ার থেকে কিন্ত ভালো গ্রিপ পাবেন না। 


✅ চেক করে নেবেন বাইকের সাথে থাকা ব্যাটারি এবং ব্যাটারির ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট। কেননা মেইন্টেনেন্স ফ্রি ব্যাটারির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ফ্যাক্টরি সীলড ব্যাটারি দেয়া হয়। MF ব্যাটারি যদি ৩ থেকে ৬ মাস অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে থাকে তাহলে সেই ব্যাটারি খুব অল্প দিনেই ড্যামেজড হয়ে যাবে।

তাছাড়া অনেক সময় অরিজিনাল ব্যাটারি পালটে লোকাল ব্যাটারি বাইকের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়ার ঘটনাও বিরল নয়। 



✅ সুইচ টিপে দেখতে হবে বাইকের সকল লাইট এবং ইন্ডিকেটর ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। 


✅ দুটো চাকা ফ্রি ভাবে ঘুরছে কিনা এবং ব্রেক ফাংশন প্রপারলি কাজ করছে কিনা এগুলা চেক করে দেখাও জরুরি। যদি দেখেন চাকা জ্যাম অথবা ব্রেক থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে তাহলে বুঝতে হবে এলাইনমেন্ট ঝামেলা আছে অথবা ডিস্ক কিংবা রিম টাল। 


✅ বাইকের হ্যান্ডেল মেজারমেন্ট ঠিক আছে কিনা দেখে নেবেন।। সেই সাথে সামনের শক এব্জরভার প্রপার ফিডব্যাক দিচ্ছে কিনা তাও দেখতে হবে। 

বাইকটি টেস্ট রাইড করলেও বুঝতে পারবেন সামনের T, হ্যান্ডেল, বল রেসার, এবং ফর্ক রডে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কিনা। বাইক একদিকে টানে কিনা সেটাও বুঝতে পারবেন। 


✅ ট্যাংকে তেল ঢুকিয়ে দেখবেন তেলের মিটার ঠিকঠাক রিডিং দিচ্ছে কিনা। 


✅ ইঞ্জিনের সাউন্ড এবং ভাইব্রেশন লেভেল স্বাভাবিক কিনা তা অনুভব করার চেস্টা করবেন।


✅ বাইকের ওয়ারেন্টি পলিসি এবং ওয়ারেন্টির আওতায় কোন কোন পার্টস আছে সেটা খুব ভালো করে জেনে নেবেন। 


✅ বাইকের সাথে প্রাইমারি টুলবক্স এবং ইউজার ম্যানুয়াল বই বুঝে নেবেন। 


মোটামুটি এই বিষয়গুলো দেখে শুনে নিলেই আশা করা যায় ঠিকঠাক একটা বাইক পাচ্ছেন। 


যারা নতুন বাইক কিনতে যাচ্ছে তাদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। কোনো জিজ্ঞাসা বা মতামত থাকলে কমেন্টে জানাবেন। হ্যাপি বাইকিং। 

লঞ্চিং এর অপেক্ষায় নতুন চমক, দাম কেমন হওয়া উচিত?

Hero Honda Karizma ZMR বাইকারদের ক্রাশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ২০০৯ সালে। 

ঘূর্নিঝড়ে বলিউড তারকা হৃতিক রোশনের ক্যাপ উড়ে যায় আর ঠিক তখন Karizma ZMR নিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটে যান হৃতিক রোশন আর ঝড়ের মধ্য থেকে ছিনিয়ে আনেন নিজের মাথার ক্যাপ। 

এই বিজ্ঞাপনের পর রাতারাতি ZMR হয়ে উঠে Talk of the town..

এরপর পুরো ভারত জুড়ে শুরু হয় ZMR এর জয়জয়কার। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় স্পোর্টস লুকের এই বাইকটি। তখন হিরোর সাথে কোলাবোরেশানে ছিলো জাপানিজ মোটরবাইক ব্রান্ড টেকজায়ান্ট Honda. 

223cc, Single Cylinder Four Stroke এই বাইকটির প্রোডাকশন চলে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এরপর কিছুটা বিরতি নিয়ে Hero Motocorp India লঞ্চ করে Karizma ZMR এর সাকসেসর Hero Karizma XMR.

এতে ইউজ করা হয়েছে ২১০ সিসির একটি DOHC 4valve লিকুইড কুলিং ইঞ্জিন যা 25.5 bhp এবং 20.4 nm টর্ক প্রোডিউস করতে সক্ষম। 

লেটেস্ট ফিচারে ঠাসা Stunning লুকের এই বাইকটি লঞ্চ হবার সাথে সাথেই Karizma প্রেমিদের মধ্যে উত্তেজনার ঝড় বইছে। 

specifications 

সিসি লিমিট বাড়ানোর পর বাংলাদেশের বাজারেও এসে হাজির Hero Karizma XMR. ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিক ভাবে লঞ্চ হতে যাচ্ছে Hero XMR. 

ভারতে এই Hero XMR 210 লঞ্চ হয়েছে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০০ রুপিতে। 

বাইকের স্পেক অনুযায়ী এই বাইকটির দাম ৩ লক্ষ ৭০ থেকে ৯০ এর মধ্যে হলে বাংলাদেশের বাইকারদের জন্য একটা গুড ডিল হতে পারে। 

আশা করা হচ্ছে খুব চমকপ্রদ এবং কম্পিটিটিভ প্রাইস ট্যাগ দিয়ে দেশের বাজারে বাইকটি লঞ্চ করবে Hero Bangladesh. 

এছাড়া হিরোর আরো একটি লেটেস্ট বাইক একই সময়ে এনাউন্স করা হবে। যার বিস্তারিত আমাদের ব্লগে প্রকাশ করা হবে। আমরা বাইকগুলোর ইম্প্রেশন এবং রিভিউ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেস্টা করবো। 

ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ Bike Doctor BD

কি আছে নতুন F250 তে? 220F কি আর আসবেনা?

একটা সময় Bajaj Pulsar 220F ছিলো তরুন সমাজের ড্রিম বাইক। 


অনেক বছর ধরে ডিজাইন এবং ফিচার এবং রিজনেবল প্রাইসের কারনে ভারতের বাজারে জনপ্রিয়তার তুংগে থেকে রাজত্ব করার পর ডিসকন্টিনিউড হলো Pulsar 220F


রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে প্রচুর আপগ্রেডেশন নিয়ে লঞ্চ হলো
ALL New Pulsar F250.

এককথায় পুরো বাইকটাই নতুনভাবে ডিজাইন করেছে বাজাজ।
যুক্ত হয়েছে ২৪৯.৭ সিসির একটি পাওয়ারফুল Fi ইঞ্জিন, যা ২৪.৫ বিএইচপি পাওয়ার প্রোডিউস করে এবং ২১.৫ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। 


সুপার পাওয়ারফুল class d LED projected হেডলাইটের সাথে এরো ডায়ানামিক ফুল ফেয়ারিং বাইকটির ডিজাইনে নতুন ডায়ামেনশন যোগ করেছে। বাইকের বিল্ড কোয়ালিটিও অসাধারণ। 


চমৎকার সীটকুশনিং, মনোশক সাসপেনশন এবং সীটিং পজিশন মিলিয়ে বাইকটি খুবই কম্ফোর্টেবল। রয়েছে ৩০০ মিমি বিগার ফ্রন্ট ডিস্ক এবং ডুয়াল চ্যানেল এবিএস। 
২৫০ সিসি হলেও লাইট ওয়েট ম্যাটারিয়াল ইউজ করার কারনে বাইকটির ওজন মাত্র ১৬৪ কেজি যার ফলে যেকোনো রাইডার খুব সহজে এই বাইকটিকে কন্ট্রোল করতে পারবে। 


বাইকের মোস্ট আইকনিক পার্ট হলো এর ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার যা ভীষণ ইনফরমেটিভ। গিয়ার ইন্টিকেটর, মাল্টিপল ট্রিপ মিটার, ফুয়েল ইন্ডিকেটর, ঘড়ি, স্পীডোমিটার, ট্যাকোমিটার, এবিএস ইন্ডিকেটর, সাইড স্ট্যান্ড ইন্ডিকেটর তো আছেই, এছাড়াও আছে এভারেজ মাইলেজ এবং ডিস্টেন্স টু এম্পটি ফুয়েল এসিস্ট্যান্ট।
 

ভারতীয় রুপিতে এই বাইকের দাম মাত্র ১ লক্ষ ৫০ হাজার রুপি।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারেও লঞ্চ হয়েছে এর ন্যাকেড ভার্সন N250 এবং মাত্র ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায় এই বাইকটি লঞ্চ হওয়ায় দেশের বাইকাররা এই বাইক নিয়ে প্রচুর এক্সাইটেড। 
অলরেডি বছরের শুরুতেই বেশ ভালো একটা রেস্পন্স পেয়েছে N250. 


আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই দেশের বাজারে F250 লঞ্চ হবে।
কে কে F250 র জন্য অপেক্ষায় আছেন কমেন্টে জানাতে পারেন।