এলয় রিম বাকা হয়ে ভেংগে যাওয়ার কারন কি?

অনেক সময় বাইক চালাতে গিয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও চাকা বড় গর্তে পড়ে, টায়ার প্রেশার কম বা বেশি থাকলে অথবা হার্ড ব্রেক করলে রিমে চাপ পড়ে ,এলাইনমেন্ট নস্ট বা টাল হয় রিম।

তাছাড়া Production Cost Cutting করতে গিয়ে ব্রান্ডগুলো অনেক সময় এলয় রিমে নিম্নমানের এলয় ব্যাবহার করে যার ফলে রিম তুলনামূলক নিম্নমানের হয় এবং অল্প প্রেশারেই বেকে যায় অথবা ভেংগে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।

এলয় রিম মাত্রাতিরিক্ত বাকা না হলে তেমন একটা বোঝা যায় না তবে রিম টাল থাকলে যে যে প্রবলেম ফেস করবেন তা হলো  :

১. ব্রেক একুরেট হবে না।

২. হার্ড ব্রেকে বাইক স্ট্রেইট লাইনে থাকবে না।

৩. বিয়ারিং নষ্ট হবে দ্রুত।

৪. চোরা লিকের মত টায়ার প্রেশার বা চাকার হাওয়া কমবে নিয়মিত।

৫. ব্রেক প্যাডের একপাশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে।

৬. টাল হয়ে ঘুরার কারনে অনেক সময় চাকার বিয়ারিং ভেংগেও যেতে পারে।

৭. কর্নারিং এ কনফিডেন্স পাবেন না।

৮. অলরেডি যেখানে বাকা হয়েছে সেখানে আবারও চাপ পড়লে রিম ভেংগে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে, ঘটতে পারে মারাত্মক এক্সিডেন্ট।

তাই, উপরের সমস্যাগুলো ফেস করলে দ্রুত রিম চেক করুন এবং এলাইন করান ও বিয়ারিং চেক করুন । এলাইনের অনুপযোগী হলে রিম চেঞ্জ করাই উত্তম সমাধান।

Admin, Bike Doctor BD 

ধন্যবাদ ]

Apache RTR 4V fi ABS ইউজার এক্সপেরিয়েন্স

TVS 4V Fi Abs এর অথেন্টিক ইউজার রিভিউ দিয়েছেন FCB ফিজিক্যাল মেম্বার জনাব আকিমুল মাহমুদ। 

#TVSRTR4vfiabs #review

Tvs 4v fi abs বাইকটি আমি এখন পর্যন্ত ১৫০০কিমি চালিয়েছি। এর আগে Suzuki gsx bandit 150 বাইকটি চালাতাম। 

ব্যান্ডিট প্রায় ৫০০০০কিমি চালিয়ে বিক্রি করে TVS 4v fi abs কিনি। এই ১৫০০ কিমি চালানোতে আমার অবজারভেশনগুলোই আমি তুলে ধরছি। 


TVS 4v fi abs বাইকটিতে আগের 4v এর থেকে বেশ কিছু জিনিস চেঞ্জ করেছে। যেমন 

টায়ার, 

FI সিস্টেম, 

Engine position, 

Engine power, 

Riding modes. এই বেশ কিছু চেঞ্জ এর ফলে আগের মডেল এর সাথে এই মডেল রাইডে বেশ ভালো রকমের পার্থক্য বোঝা যায়। টায়ার চেঞ্জ করায় ব্রেকিং আগের থেকে ভালো হয়েছে, তবে ব্রেকিং সিস্টেম সেই পুরান হওয়ায় ব্রেকিং বাইট কিছুটা কম, front এ এবিএস থাকায় স্কিড করার ভয় নাই তবে পিছনের টায়ার রেডিয়াল দেয়ায় সারফেস গ্রিপ কম পায় এবং স্কিড করেছে আমার কাছে ২ বার। 

FI সিস্টেম হওয়ায় এক্সিলারেশন আগের চেয়ে স্মুথ হয়েছে এবং মাইলেজ বেড়েছে বেশ ভালো রকমের। আমি সিটি এবং হাইওয়ে মিলিয়ে ৪৭+ মাইলেজ পেয়েছি। আমি ব্রেক ইন পিরিয়ডে হাইওয়েতে স্মুথ এক্সিলারেশনে ১১৬ পর্যন্ত তুলেছি কিন্তু আগের ভার্শনে যে রেডি পিকাপ ছিল সেটা আর নেই। তবে বাইকটির লং ট্যুরে কেমন পারফরম্যান্স চেক করতে পারিনি এখনো। তবে ১৮০ কিমি একটা শর্ট ট্যুরে পারফরম্যান্স ভালোই পেয়েছি। 

বাইকটির সাস্পেনশন ভালোই, হেডলাইটের আলো যথেষ্ট ভালো, বিল্ড কোয়ালিটিও ভালো। 


এবার আসি বাইকের কিছু খারাপ দিক যা আমার ভালো লাগে নি। 

বাইকটির পাওয়ার আগের তুলনায় বেশি হলেও এক্সিলারেশন এবং টপ স্পিড কম।  ১০০কিমি স্পিড এর উপর ভাইব্রেট করে ভালোই। ১৫০০কিমিতেই ট্যাপেট লুজ হয়ে গেছে। ব্রেকিং পারফরম্যান্স আপগ্রেড করার জন্য FZS v3 এর মাস্টার সিলিন্ডার ইন্সটল করেছি, পিছনের Radial tyre চেঞ্জ করে mrf masseter  ইন্সটল করার পরে ব্যালেন্স এবং ব্রেকিং এর অসাধারণ ইম্প্রুভমেন্ট হয়েছে। তবে সার্ভিস সেন্টারে ২টি বিষয় খটকা লেগেছে যেমন, FI নাকি ক্লিন করতে হয় না আর স্টক অবস্থায় থ্রটল ফ্রি প্লে একেবারেই ছিল না জিজ্ঞাসা করায় বলেছে যে থ্রটল ফ্রি প্লে নাকি লাগে না। এখন দেখার বিষয় লং টার্মে কেমন পারফর্ম করে🤔🤔


পরিশেষে বলা যায় বাইকটি ২,৭০,০০০ টাকা বাজেটে মোটামুটি ভালো একটা ডিল তবে yamaha আর Suzuki এর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে দাম ২,৫০,০০০ করা উচিৎ ছিল আর TVS  এর ব্রেকিং নিয়ে কাজ করা উচিৎ।


Akimul Mahmud 

Registered member of

Freewheelers Club BD Ltd. (FCB) 

কি কারনে বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ফুটো হয়ে যাবে?

রাস্তায় বাইক চালাচ্ছেন। 

হঠাত বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ফুটো হয়ে পেট্রোল চুইয়ে পড়লো গরম ইঞ্জিনের উপর। এতেই ধরে যেতে পারে আগুন।

অথবা ট্যাংক ফুল করে তেল ভরে রাখলেন, পরের দিন কিছুদুর না যেতেই ফুরিয়ে গেলো তেল। কারন ট্যাংক লিক হয়ে সব তেল পড়ে গেছে রাস্তায়। 

এমন ঘটনা হয়তো আপনার বা আপনার বাইকার বন্ধুদের সাথে হয়েছে। 

কিন্ত কেন এমন হলো? সমাধান কি?


বাইকের ফুয়েল ট্যাংক মেটালের তৈরি এবং মেটালে রাস্ট বা মরিচা পড়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।


যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি বাইক ব্যাবহার করছেন তারা হয়তো বাইকে মরিচা পড়ার সাথে পরিচিত। 

বিভিন্ন কারনে বাইকের নানান অংশে মরিচা পড়তে দেখে থাকবেন ৷ 

তবে যদি দেখেন প্রায় নতুন বাইকেই যত্ন নেবার পরেও ফ্রিকোয়েন্টলি রাস্ট আসছে তাহলে বুঝতে হবে বাইকের মেটাল এবং পেইন্ট কোয়ালিটি অত্যন্ত নিম্নমানের।

তাই নতুন বাইক কেনার সময় ট্যাংকের মুখ খুলে চেক করে নেবেন ভেতরে কোনো মরিচার অস্তিত্ব আছে কিনা।


এছাড়াও অনেক কারনে বাইকের বিভিন্ন অংশে মরিচা পড়তে পারে, যেমন


⚠️ বাইক ধোয়ার পর অথবা বৃষ্টিতে ভেজার পর ভালোভাবে বাইক এয়ার প্রেশার দিয়ে না শুকালে মেটাল পার্টগুলোতে মরিচা ধরার সম্ভাবনা থাকে।


⚠️ যারা সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিয়মিত বাইক চালান লবনাক্ত আবহাওয়ার কারনেও তাদের বাইকে মরিচা পড়ার প্রবনতা দেখা যায়।


⚠️ অনেকে নিয়মিত খুব অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে বাইক চালান, ট্যাংক ফুল করেন না।এতেও ট্যাংকের ফাকা জায়গায় রাস্ট পড়তে পারে।


⚠️ তেলে ভেজাল বা জলীয় মিশ্রনের কারনেও ফুয়েল ট্যাংকের ভিতরে মরিচা পড়তে পারে। লম্বা সময় মরিচা পরিস্কার

করা না হলে সেটা বাড়তে বাড়তে আস্তে আস্তে এক সময় মেটালের ফুয়েল ট্যাংকে  ছিদ্র বা লিকেজ সৃষ্টি করতে পারে। 


⚠️ চলন্ত বাইকের ফুয়েল ট্যাংক ছিদ্র হয়ে যদি তেল গরম ইঞ্জিনের উপর পড়ে তাহলে বাইকে আগুন ধরার মত ঝুকি থাকে। তাই বাইকে মরিচা ধরার বিষয়টাকে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই। 



তাহলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে করনীয় কি?


✅ কিছুমাস পরপর অথবা যখন বাইক সার্ভিসিং করান তখন বাইকের বডিপার্টস গুলো খোলা হয়, সেই সময় খুব ভালো করে ফুয়েল ট্যাংকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরিক্ষা করে নেবেন কোনো মরিচা আছে কিনা।

সেই সাথে ভিতর বাহির ভালো করে পরিস্কার করিয়ে নেবেন।


✅ বাইক ওয়াশ করার পর ভালোভাবে এয়ার প্রেশার দিয়ে বাইকের সকল অংশ শুকিয়ে নেবেন।

প্রয়োজনে মরিচারোধী WD40 স্প্রে ব্যাবহার করতে পারেন। অনেক সার্ভিস সেন্টারে কেরোসিন বা ডিজেল দিয়ে স্প্রে করে দেয় এতেও মরিচা পড়ার সম্ভাবনা কমে আসে।


✅ মরিচা পড়া অংশ চোখে পড়লে সেই স্থান  ভালোভাবে পরিস্কার করে পেইন্ট করিয়ে নিতে হবে।


✅ বাইক বৃস্টিতে ভেজার পরেও এয়ার প্রেশার বা ব্লোয়ার দিয়ে বাইক শুকিয়ে নেয়ার চেস্টা করবেন। 


✅ বাইক গ্যারেজ থেকে বের করার আগে বাইক রাখার স্থানটিতে একবার চোখ বুলিয়ে নেবেন, এতে ফুয়েল লিকেজ থাকলে মাটিতে পড়ে থাকা তেল দেখে সেটা সহজেই ধরতে পারবেন। 


✅ চলন্ত অবস্থায় যদি তেলের গন্ধ পান তাহলে বাইক থামিয়ে চেক করবেন কোনো লিকেজ আছে কিনা?


✅ লিকেজের কারনে যদি চলন্ত অবস্থায় তেল পড়তে থাকে তাহলে তৎক্ষনাৎ বাইক থামিয়ে লিকেজ খুজে বের করার চেস্টা করবেন, এবং লিকেজ থাকলে সেটা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য সাবান ব্যাবহার করতে পারেন। অথবা M-Seal দিয়েও ইন্সট্যান্ট লিকেজ রিপেয়ার করা সম্ভব। তবে লিকেজের ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ট্যাংক খুলে পার্মানেন্টলি লিকেজ রিপেয়ার করিয়ে নিতে হবে। 

✅ দীর্ঘদিন বাইক ব্যাবহার করা না হলে অবশ্যই বাইকের ট্যাংক ফুল করে রাখবেন, এতে মরিচা পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। 

✅ অতিরিক্ত মরিচার কারনে ট্যাংক রিপেয়ারের অযোগ্য মনে হলে ফুয়েল ট্যাংক পরিবর্তন করাই উত্তম সমাধান। 


ভালো থাকুক আপনার বাইক। হ্যাপি বাইকিং। 

ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ Bike Doctor BD


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ 

এডমিন, Bike Doctor BD