বাংলাদেশে KTM125 ফ্লপ হবার তিন কারন

KTM ব্রান্ডের বাইকগুলো নিয়ে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বেশ ফ্যাসিনেশন থাকলেও অস্ট্রিয়ান ব্রান্ড KTM আমাদের দেশের বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। 

 
KTM এর লাইন আপে লোয়ার সিসি সেগমেন্ট অথবা ১৫০ সিসি সেগমেন্টে কোনো বাইক নাই,  তাই সিসি লিমিটের কারনে KTM125 ছাড়া আর কোনো বাইক বাংলাদেশে এতদিন ঢুকতে পারেনি। এছাড়াও KTM125 আমাদের দেশে ফ্লপ বাইকের তালিকায় জায়গা করে নেয়ার পেছনে আরো বেশ কিছু কারন আছে। 

তবে মোটামুটি ৩টা বড় কারন আমার চোখে ধরা পড়েছে। যদি বাইকের লুক & ফিল, কোয়ালিটি এবং পার্ফমেন্স বিচার করেন তাহলে KTM125 বাইকগুলো একদম টপ লিস্টে থাকবে এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই।


বাইকের টায়ার থেকে শুরু করে, সাস্পেনশন, ব্রেকিং ইকুইপমেন্টস, বডিপার্টস, কন্সোল, ইঞ্জিন পার্টস সহ প্রতিটা পার্টের কোয়ালিটি অনেক অনেক ভালো এবং ডিউরেবল।
নিম্মমানের কোনো পার্টস KTM এর বাইকগুলোতে নাই। মজার ব্যাপার হলো সেইম বাইকের ২০০, ২৫০ এবং ৩৯০ সিসি ভার্সনে যেই ফ্রেম/শ্যাসি, স্পেক এবং ফিচার পাবেন, ১২৫ সিসিতেও অলমোস্ট সেইম ফিচার পাবেন।
শুধু ইঞ্জিন ডিস্প্লেসমেন্টে পার্থক্য থাকবে।


প্রিমিয়াম ১২৫ সিসি হিসেবে পার্ফমেন্স একদম ঠিকঠাক। অর্থাৎ যেমন হওয়া উচিত ঠিক তেমন।
কিছুক্ষেত্রে হেড টু হেড কোয়ালিটি এবং পার্ফমেন্স কম্পেয়ার করলে অন্যান্য প্রিমিয়াম ১৫০ সিসির ঘাম ছুটিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

তাছাড়া ইউরোপিয়ান মার্কেট অনেক সেন্সেটিভ, তাই ওই রিজিয়নকে টার্গেট করে বাইক বানালে কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজের কোনো সুযোগ থাকে না। এই কারনে প্রাইসটাও বেড়ে যায়।


Most Important ফ্যাক্ট,
ইউরোপে ১২৫ সিসি বিগিনারস বাইক হলেও বাংলাদেশের Perspective অনুযায়ী এটা মোটেও কমন পিপলের বাইক না।
খুব ভালো টেকনিক্যাল নলেজ এবং এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে এই বাইক সবাই মেইন্টেইন করতে পারবে না।

খুব ভালো করে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেছি,

বাংলাদেশে KTM জনপ্রিয় না হবার পেছনের বড় ৩ টা কারন রয়েছে,

প্রথমত, KTM125 বাইকের প্রাইস অনেক বেশি। আমাদের দেশে ১২৫ সিসি সেগমেন্টের বাইক কেনার যে কাস্টমার বেজ রয়েছে তাদের এফোর্ডেবিলিটির বাইরে KTM125.
সাধারণত আমাদের দেশে যারা ১০০-১২৫ সিসি বাইক কেনে তাদের বাজেট থাকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। তাদের ১২৫ সিসি বাইক কেনার মুল পারপাসগুলো হলো,

ডেইলি কমিউটিং,
✅ লো মেইন্টেনেন্স এবং
✅ হাই মাইলেজ।

এই বেসিক নীডস ফুলফিল করার জন্য দেড় লাখের মধ্যে প্রচুর ১২৫ সিসি বাইক বাজারে এভেইলেবল। 

দ্বিতীয়ত, প্রপার সার্ভিস সেন্টার এবং স্পেয়ার পার্টসের  অভাব, সেই সাথে স্পেয়ার পার্টস অনেক এক্সপেন্সিভ। এতবড় একটা ব্রান্ডের বিপরীতে ঢাকাসহ সারাদেশে মাত্র ৩টা সার্ভিস সেন্টার যা রীতিমতো হতাশাজনক। রেগুলার মেইন্টেনেন্স স্পেয়ার পার্টস যেমন ব্রেক প্যাড, এয়ার ফিল্টার, অয়েল ফিল্টার, ক্যাবলস, চেইন স্প্রোকেট টাইপের কঞ্জুমেবল পার্টসগুলোর দাম রিজনেবল এটা ভালো দিক এবং প্রতিটা স্পেয়ার পার্টসের লাইফস্প্যান অনেক লং। সমস্যা হলো স্পেয়ার এভেইলেবল না থাকা।

বডিপার্টস সহ অন্যান্য পার্টস একটু বেশিই এক্সপেন্সিভ তবে এগুলোর বিল্ড কোয়ালিটি একটু বেশিই ভালো তাই মেজর এক্সিডেন্ট না হলে সহজে নস্ট হয় না।

KTM বাইকগুলো টেকনোলজিক্যালি প্রচুর এডভান্সড হবার কারনে ওয়েল ট্রেইন্ড প্রপার হ্যান্ড ছাড়া এই বাইক সার্ভিস করা ডিফিকাল্ট। এই ব্যাপারে KTM এর বাংলাদেশী পরিবেশক ভীষণ উদাসীন বলেই মনে হলো। এখানে সিরিয়াসলি অনেক ইম্প্রুভাইজেশন খুব প্রয়োজন। 

তৃতীয়ত, আমাদের দেশে KTM ব্রান্ডটা নতুন ঢুকেছে তাই এর সম্পর্কে আমাদের এওয়ারনেস কম। প্রচার প্রচারনাও কম। তাছাড়া সেইম প্রাইস বা এর চেয়ে কম প্রাইসে বাজারে Honda, Yamaha, Suzuki র মত Well Known ব্রান্ডের ১৫০সিসি স্পোর্টস বা ন্যাকেড স্পোর্টস বাইক এভেইলেবল। সেগুলোর স্পেয়ার/সার্ভিস এভেইলেবল এবং এফোর্ডেবল তাই সেইফ সাইডে থাকতেই মানুষ KTM125 ট্রাই করতে চায় না।

তবে KTM125 বাইকের প্রতিটা ভার্সনেরই রাইড কোয়ালিটি চমৎকার, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই। সামনে হাইয়ার সিসির KTM দেশে রিজনেবল প্রাইস পয়েন্টে এভেইলেবল হলে এবং সার্ভিস স্পেয়ার্স এভেইলেবল এবং এফোর্ডেবল করতে পারলে KTM নিজের শক্ত একটা অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আশা করা যায়।


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ

এডমিন, BIKE DOCTOR BD

ছাপড়িদের অপছন্দের বাইক

New Honda Xblade Impression!! 

কালার গ্রাফিক্স যেমন সুন্দর৷ 

বাইকের ডিজাইনটাও অনেক স্মার্ট। 

নতুন ৩ টা কালার ভেরিয়েন্ট এসেছে। 

৩ টাই সুন্দর। লাল আর সিলভার এই দুইটা কালার পার্সোনালি বেশি ভালো লেগেছে। 

কম্ফোর্টেবল সীটিং পজিশনের সাথে হোন্ডার রিলায়েবল স্মুথ ইঞ্জিন।


এই সেগমেন্টে সব কম মেইন্টেনেন্স খরচ মনে হয় এই বাইকেই। যদিও Robo Faced LED headlight দিয়েছে তবে হেডলাইটের আলো বেশ কম লেগেছে আমার কাছে। এটা আরো ভালো হতে পারতো। হাইওয়েতে গেলে এক্সট্রা ফগলাইট ইন্সটল করে নিতে হবে। সামনের টায়ারটা আরেকটু ফ্যাটি হলে খুব ভালো হতো। এই আপগ্রেড টা আশা করেছিলাম। 

যাইহোক,

Best Part হলো Xblade এর ইনক্রেডিবল মাইলেজ। একটা ১৬০ সিসির কার্বোরেটর ইঞ্জিনের বাইক হয়েও ৫৫+ মাইলেজ দেয় যা অন্যান্য ১৫০ সিসি fi বাইকগুলোকে লজ্জা পাইয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। গ্রামের কাচা রাস্তা, শহরের জ্যাম অথবা হাইওয়ে সবখানেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার মত একটা প্রুভেন বাইক হলো Honda Xblade.

দাম অনুযায়ী বিল্ড কোয়ালিটি ঠিকঠাক। 


রাস্তায় যারা Xblade চালাচ্ছে, খেয়াল করে দেখবেন এরা যথেষ্ট ম্যাচিওরড এবং রেস্পন্সিবল স্মার্ট বাইকার। 

রাস্তায়  আত্রা ফ্রাত্রা ছাপড়িদেরকে কখনো আমি Xblade চালাতে দেখিনি। 

মোটামুটি এই ছিলো New Honda Xblade নিয়ে আমার প্রাথমিক অবজারভেশন। অন্য কোনো বাইক নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখে জানান। 


হ্যাপি বাইকিং ।

Follow BIKE DOCTOR BD

স্পীড লিমিট মেনে ব্রেক ইন পিরিয়ড নয়

অনেক বন্ধুই নতুন বাইক কিনে বুঝতে পারেনা, ব্রেক ইন পিরিয়ডে কত কিলোমিটার স্পীডে রাইড করতে হবে???

তাছাড়া বিভিন্ন নামীদামী ব্রান্ডের শোরুম থেকেও ব্রেক ইন পিরিয়ড নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে থাকে৷ অনেক সময় ৪০-৫০ এর বেশি স্পীড তুলতে নিষেধ করে দেয় এবং এতে বাইকের ক্ষতি হবার ভয় দেখায়।


সঠিক পদ্ধতি হলো প্রথম ৫০০ -২০০০ কিমি পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ হাজার RPM মেইনটেইন করে চালাতে হবে এবং হঠাৎ জোরে এক্সিলারেট করা যাবেনা। 

এই সময়টাতে গিয়ার শিফটিং করতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত। 

যেমন ফার্স্ট গিয়ারে ১০-২০ 

সেকেন্ড গিয়ারে ২০-৩০, 

থার্ড গিয়ারে ৩০-৪০, 

ফোর্থ গিয়ারে ৪০-৫০, 

ফিফথ গিয়ারে ৫০-৬০ কিমি/ঘন্টা, এই রকম স্পীড  রেশিও মেইনটেইন করলে ভালো হয়। 


আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো :

🟪 একই আরপিএমে বেশিক্ষণ চালানো যাবে না। 

🟩 ওভারলোড নেয়া যাবেনা। 

🟦 সকালে প্রথম স্টার্ট দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে ইঞ্জিন গরম হবার জন্য। 

🟨একটানা অনেকক্ষণ চালানো যাবে না, কিছুক্ষন পর পর ইঞ্জিনকে রেস্ট দিতে হবে। 


পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং ফলো করুন BIKE DOCTOR BD