দেশে এলো ৩০০ সিসির স্পোর্টস বাইক

 দেশের প্রথম ৩০০ সিসির স্পোর্টস বাইক... 


সিসি লিমিট বাড়ার পর দেশের বাইকারদের মধ্যে উত্তেজনা অনেক বেড়ে যায় আর তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে একের পর ঢুকতে থাকে হাইয়ার সিসি বাইক। সিসি লিমিট ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত উন্নীত হবার পর সবার আগে লঞ্চ হয় Pulsar N250, এরপর Hero XMR 210, Suzuki Gixxer 250SF এবং অলরেডি দেশের বাজারে ঢুকে গেছে KPR 200. 

তবে এবার ধামাকা হিসেবে হাজির হলো, 

৩০০ সিসির CFMOTO 300ss. 

চলুন দেখে নেই বাইকটির বেসিক স্পেসিফিকেশন 

ডুয়াল ওভারহেড ক্যামশাফটের সাথে লিকুইড কুলড ফোর ভালভ ২৯২ সিসির ইএফয়াই ইঞ্জিন। 

ইঞ্জিন পার্ফমেন্স দুর্দান্ত হবে এটা বলাই বাহুল্য। সিক্স স্পীড গিয়ারবক্সের সাথে যোগ হয়েছে স্লিপার ক্লাচ। 

ইঞ্জিন টি ২৯ হর্সপাওয়ার উৎপন্ন করতে সক্ষম। 


ইউজ করা হয়েছে ট্রেলিস ফ্রেম যা হাইয়ার সিসি বাইকগুলোতে সর্বাধিক ব্যাবহার করা হয়। এই ট্রেলিস ফ্রেমের কারনে বাইকের হ্যান্ডেলিং খুব শার্প হয় এবং ওজনে হালকা হবার কারনে কুইক এক্সিলারেশনে হেল্প করে। সাসপেনশন হিসেবে থাকছে ৩৭ মিমি ইউএসডি বা আপসাইড ডাউন সাসপেনশন, যা বাইকের কমফোর্ট এবং স্ট্যাবিলিটি অনেক বেশি এনহ্যান্স করবে। 
সেফটি ফিচার হিসেবে ডুয়াল চ্যানেল এবিএস এবং বিগ সাইজ ডিস্ক থাকছে যা দেবে অসাধারণ ব্রেকিং পার্ফমেন্স। 


দুর্দান্ত লুক এবং ডিজাইনের এই CFMoto300ss বাইকটি বাইক প্রেমিদের নজর কাড়বে এটা চোখ বন্ধ করে বলা যায়, তবে দেশের বাইরে এই বাইকের ভাল জনপ্রিয়তা থাকলেও বাংলাদেশের বাজারে এই বাইক কতটা রিলায়েবল হবে এই বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়, কারন দেশের বাজারে জাপানিজ এবং ইন্ডিয়ান ব্রান্ডের বাইরে যেসব অপ্রচলিত ব্রান্ড রয়েছে সেগুলোর সার্ভিস এবং স্পেয়ার নিয়ে আমরা কনফিডেন্ট না। 

সার্ভিস এবং স্পেয়ারের সাপোর্ট যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে CFMOTO 300SS দেশের বাইক প্রেমিদের কাছে বেশ ভালো একটা অপশন হতে পারে। 

ইইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে এই বাইকের দাম ৪ হাজার ৪৯৯ ইউএস ডলার।

ভারতে ২ লাখ রুপির আশেপাশে

বাইকটি সম্পর্কে আপনার আগ্রহ কেমন এবং মতামত কি, কমেন্টে জানাতে পারেন। ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ Bike Doctor BD.

লেখা: ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ 

Admin, BIKE DOCTOR BD

হেলমেট পরিস্কার করা এখন পানির মত সোজা


বাইক চালাতে হলে হেলমেট তো পড়তেই হয়, আর হেলমেট ব্যাবহার করলে মাথার ঘাম আর বাইরের ধুলাবালিতে হেলমেটের ভিতর বাহির সবই নোংরা হয়। প্রয়োজন পড়ে হেলমেট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং জীবানুমুক্ত করার। অনেকেই জানেন না হেলমেট কিভাবে ক্লিন করতে হয়।

তাই চলুন আজকে জেনে নেই হেলমেট পরিস্কার করার নিয়ম।


হেলমেট সাধারণত ২ টা মেথডে ক্লিন করা যায়,

১। সফট ক্লিন এবং

২। ডীপ ক্লিন।


অল্পস্বল্প ময়লা পরিস্কার এবং জীবানুমুক্ত করার জন্য হেলমেট সফট ক্লিন করে নেয়া খুবই সোজা৷

বাজারে কিছু ডিসইনফ্যাক্টিং ফোম স্প্রে পাওয়া যায়। সেই ফোমটা হেলমেটের ইন্টেরিয়র এবং এক্সটেরিয়রে স্প্রে করে কিছুক্ষন রেখে মাইক্রোফাইবার ক্লথ দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিলেই কাজ শেষ।


তবে দীর্ঘদিন ব্যাবহারের পর হেলমেট যখন অতিরিক্ত নোংরা হয় তখন প্রয়োজন পড়ে ডীপ ক্লিন করার। এই পদ্ধতিতে হেলমেট সবচেয়ে ভালো পরিস্কার হয়। 

ধাপগুলি বলে দিচ্ছিঃ 


১। শুরুতেই হেলমেটের ভাইজর এবং প্যাডিং সতর্কতার সাথে খুলে নিন। প্রতিটি সার্টিফাইড হেলমেটে প্যাডিং খোলার সহজ ব্যাবস্থা থাকে। 

এরপর বড় একটা গামলায় হাল্কা গরম অথবা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ডিটারজেন্ট অথবা শ্যাম্পু নিন।

ডিটারজেন্ট ভালো ভাবে পানির সাথে মিশিয়ে ফেনা তৈরি করে নিন। 


২। হেলমেটের প্যাডিং এবং লাইনার   ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন, তারপর প্যাডিং এর যেসব অংশে বেশি ময়লা ধরে ওইসব জাইগায় দাত মাজার নরম ব্রাশ দিয়ে হাল্কা ভাবে ব্রাশ করে পরিস্কার করুন।


৩। এবার আরেকটা গামলায় পরিস্কার পানি নিয়ে তাতে প্যাডিংগুলা কয়েকবার চুবিয়ে ডিটারজেন্টমুক্ত করুন৷ চাইলে পানিতে সামান্য স্যাভলন বা ডেটল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে প্যাডিং জীবানুমুক্ত হবে৷



সবশেষে প্যাডিংগুলা পানি থেকে তুলে সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে রোদে শুকাতে দিন। পানি নিজে থেকেই ঝরে গিয়ে প্যাডিং শুকিয়ে যাবে।


বিশেষ সতর্কতাঃ প্যাডিংগুলা কখনোই ধোয়া কাপড়ের মত করে চিপড়াবেন না কিংবা মোচড়াবেন না। এতে প্যাডিং এর ভিতরে থাকা ফোমগুলো নস্ট হতে পারে।

হেলমেটের প্যাডিং ডীপ ওয়াশ করলে অবশ্যই রোদ্রজ্জল দিনে করার চেস্টা করবেন৷ এতে প্যাডিং দ্রুত শুকাবে।


এক্সটেরিয়র ক্লিন করার জন্য ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে একটুকরো ফোম ডুবিয়ে নিন, তারপর হেলমেটের চারপাশ হালকাভাবে মেজে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।


পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হেলমেট আপনার রাইডিং কে করবে আরো কনফিডেন্ট।

কোন জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন৷ উপকারী মনে হলে বন্ধুদের সাথে পোস্ট টি শেয়ার করুন। 


লেখাঃ ইকবাল আবদুল্লাহ রাজ 

এডমিন Bike Doctor BD

ব্রান্ড ভ্যালুর চক্করে বাড়তি টাকায় ধরা খাচ্ছেন না তো?

বাইক কিনতে গেলে ব্রান্ড ভ্যালুর প্রসংগটা চলেই আসে। 

আর এই ব্রান্ড ভ্যালুর দোহাই দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি মাত্রাতিরিক্ত দাম হাকায়। 


আসলে ব্রান্ড ভ্যালু জিনিসটা কি?? 

এর পেছনে কৃতিত্ব কার? 

কোয়ালিটির বিচারে শত বছর ধরে গড়ে ওঠা একটা রিনোউন জাপানিজ ব্রান্ডের ব্রান্ড ভ্যালুর সাথে সেই ব্রান্ডের থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোতে লোকালি প্রোডাকশন হওয়া বাইকের মিল কতটুকু?

ভ্যালুর কথা চিন্তা করে বাড়তি টাকায় একটা বাইক কিনে ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট পেলাম নাকি লোগো কিনে আনলাম? কম্পিটিশনের বাজারে বিষয়গুলো ইগনোর করার সুযোগ নেই। 


সাধারণত, 

একটা মোটরবাইক, কতটা মানসম্মত? 

কতটা ডিউরেবল? কতটা রিলায়েবল?

এভেইলেবিলিটি কেমন? 

ইউজার ফিডব্যাক কতটা ভালো?

মান অনুযায়ী দাম জাস্টিফাইড কিনা?

এইসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ব্রান্ড ভ্যালু গড়ে উঠে এবং একটা ব্রান্ড ওয়েল নোউন এবং স্টাবলিশড হয় । তবে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরিতে কঞ্জিউমার একটা ভাইটাল রোল প্লে করে। তবে ব্রান্ড ভ্যালু একদিনে তৈরি হয়না, বছরের পর বছর ধরে সেরা প্রোডাক্ট এবং সেরা সার্ভিস কোয়ালিটি ধরে রাখার পর অল্প অল্প করে একটা ব্রান্ড বিশ্বস্ততা অর্জন করে। তবে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি হতে যতটা সময় লাগে ভ্যালু নস্ট হতে কিন্ত এত সময় লাগে না৷ তাই প্রতিটা ব্রান্ড ভ্যালু ধরে রাখার জন্য অনেক চেস্টা করে। 

ফানফ্যাক্ট ইজ, প্রোডাকশন কোথায় হচ্ছে সেটা রিয়েলি ইম্পর্ট্যান্ট, ইন্ডিয়ার বাজারে ইন্ডিয়ান লোকাল ব্রান্ডের বাইকের ডিউরেবিলিটি জাপানিজ ব্রান্ডের বাইকের চেয়েও বেটার হতে দেখা যায়। আবার ইন্ডিয়ার চেয়ে জাপানিজ ব্রান্ডের ইন্দো এবং থাই ভার্সনগুলো মাচ বেটার। 

একটা বাইক সম্পর্কে ফিডব্যাক দেয়ার আগে প্রতিটা কাস্টমার বা ইউজারের উচিত সঠিক ফিডব্যাক দেয়া যাতে আপনার দেয়া ফিডব্যাকের কারনে একটা সঠিক প্রোডাক্ট ভ্যালু পায়। এতে আপনার সাথে সাথে অন্যরাও উপকৃত হবে। তাছাড়া বায়াসড বা পেইড রিভিউ এখন আরেক মহামারির নাম।

মনে রাখা উচিত, যদি আপনি অন্ধের মত সামান্য কিছু সুবিধার বিনিময়ে খারাপ জিনিসটাকেও ভালো বলতে থাকেন তাহলে এই চক্রে খুব শীঘ্রই আপনিও পড়বেন এবং ফে*ই*ক বা পেইড রিভিউ/ফিডব্যাক দেখে কোনো বাইক কিনে রাম ধরা খাবেন আর কপাল চাপড়াবেন। হ্যাপি বাইকিং।


Follow BIKE DOCTOR BD

চলবে...