হেলমেট পরিস্কার করা এখন পানির মত সোজা


বাইক চালাতে হলে হেলমেট তো পড়তেই হয়, আর হেলমেট ব্যাবহার করলে মাথার ঘাম আর বাইরের ধুলাবালিতে হেলমেটের ভিতর বাহির সবই নোংরা হয়। প্রয়োজন পড়ে হেলমেট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং জীবানুমুক্ত করার। অনেকেই জানেন না হেলমেট কিভাবে ক্লিন করতে হয়।

তাই চলুন আজকে জেনে নেই হেলমেট পরিস্কার করার নিয়ম।


হেলমেট সাধারণত ২ টা মেথডে ক্লিন করা যায়,

১। সফট ক্লিন এবং

২। ডীপ ক্লিন।


অল্পস্বল্প ময়লা পরিস্কার এবং জীবানুমুক্ত করার জন্য হেলমেট সফট ক্লিন করে নেয়া খুবই সোজা৷

বাজারে কিছু ডিসইনফ্যাক্টিং ফোম স্প্রে পাওয়া যায়। সেই ফোমটা হেলমেটের ইন্টেরিয়র এবং এক্সটেরিয়রে স্প্রে করে কিছুক্ষন রেখে মাইক্রোফাইবার ক্লথ দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিলেই কাজ শেষ।


তবে দীর্ঘদিন ব্যাবহারের পর হেলমেট যখন অতিরিক্ত নোংরা হয় তখন প্রয়োজন পড়ে ডীপ ক্লিন করার। এই পদ্ধতিতে হেলমেট সবচেয়ে ভালো পরিস্কার হয়। 

ধাপগুলি বলে দিচ্ছিঃ 


১। শুরুতেই হেলমেটের ভাইজর এবং প্যাডিং সতর্কতার সাথে খুলে নিন। প্রতিটি সার্টিফাইড হেলমেটে প্যাডিং খোলার সহজ ব্যাবস্থা থাকে। 

এরপর বড় একটা গামলায় হাল্কা গরম অথবা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ডিটারজেন্ট অথবা শ্যাম্পু নিন।

ডিটারজেন্ট ভালো ভাবে পানির সাথে মিশিয়ে ফেনা তৈরি করে নিন। 


২। হেলমেটের প্যাডিং এবং লাইনার   ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন, তারপর প্যাডিং এর যেসব অংশে বেশি ময়লা ধরে ওইসব জাইগায় দাত মাজার নরম ব্রাশ দিয়ে হাল্কা ভাবে ব্রাশ করে পরিস্কার করুন।


৩। এবার আরেকটা গামলায় পরিস্কার পানি নিয়ে তাতে প্যাডিংগুলা কয়েকবার চুবিয়ে ডিটারজেন্টমুক্ত করুন৷ চাইলে পানিতে সামান্য স্যাভলন বা ডেটল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে প্যাডিং জীবানুমুক্ত হবে৷



সবশেষে প্যাডিংগুলা পানি থেকে তুলে সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে রোদে শুকাতে দিন। পানি নিজে থেকেই ঝরে গিয়ে প্যাডিং শুকিয়ে যাবে।


বিশেষ সতর্কতাঃ প্যাডিংগুলা কখনোই ধোয়া কাপড়ের মত করে চিপড়াবেন না কিংবা মোচড়াবেন না। এতে প্যাডিং এর ভিতরে থাকা ফোমগুলো নস্ট হতে পারে।

হেলমেটের প্যাডিং ডীপ ওয়াশ করলে অবশ্যই রোদ্রজ্জল দিনে করার চেস্টা করবেন৷ এতে প্যাডিং দ্রুত শুকাবে।


এক্সটেরিয়র ক্লিন করার জন্য ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে একটুকরো ফোম ডুবিয়ে নিন, তারপর হেলমেটের চারপাশ হালকাভাবে মেজে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।


পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হেলমেট আপনার রাইডিং কে করবে আরো কনফিডেন্ট।

কোন জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন৷ উপকারী মনে হলে বন্ধুদের সাথে পোস্ট টি শেয়ার করুন। 


লেখাঃ ইকবাল আবদুল্লাহ রাজ 

এডমিন Bike Doctor BD

ব্রান্ড ভ্যালুর চক্করে বাড়তি টাকায় ধরা খাচ্ছেন না তো?

বাইক কিনতে গেলে ব্রান্ড ভ্যালুর প্রসংগটা চলেই আসে। 

আর এই ব্রান্ড ভ্যালুর দোহাই দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি মাত্রাতিরিক্ত দাম হাকায়। 


আসলে ব্রান্ড ভ্যালু জিনিসটা কি?? 

এর পেছনে কৃতিত্ব কার? 

কোয়ালিটির বিচারে শত বছর ধরে গড়ে ওঠা একটা রিনোউন জাপানিজ ব্রান্ডের ব্রান্ড ভ্যালুর সাথে সেই ব্রান্ডের থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোতে লোকালি প্রোডাকশন হওয়া বাইকের মিল কতটুকু?

ভ্যালুর কথা চিন্তা করে বাড়তি টাকায় একটা বাইক কিনে ভ্যালু ফর মানি প্রোডাক্ট পেলাম নাকি লোগো কিনে আনলাম? কম্পিটিশনের বাজারে বিষয়গুলো ইগনোর করার সুযোগ নেই। 


সাধারণত, 

একটা মোটরবাইক, কতটা মানসম্মত? 

কতটা ডিউরেবল? কতটা রিলায়েবল?

এভেইলেবিলিটি কেমন? 

ইউজার ফিডব্যাক কতটা ভালো?

মান অনুযায়ী দাম জাস্টিফাইড কিনা?

এইসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ব্রান্ড ভ্যালু গড়ে উঠে এবং একটা ব্রান্ড ওয়েল নোউন এবং স্টাবলিশড হয় । তবে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরিতে কঞ্জিউমার একটা ভাইটাল রোল প্লে করে। তবে ব্রান্ড ভ্যালু একদিনে তৈরি হয়না, বছরের পর বছর ধরে সেরা প্রোডাক্ট এবং সেরা সার্ভিস কোয়ালিটি ধরে রাখার পর অল্প অল্প করে একটা ব্রান্ড বিশ্বস্ততা অর্জন করে। তবে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি হতে যতটা সময় লাগে ভ্যালু নস্ট হতে কিন্ত এত সময় লাগে না৷ তাই প্রতিটা ব্রান্ড ভ্যালু ধরে রাখার জন্য অনেক চেস্টা করে। 

ফানফ্যাক্ট ইজ, প্রোডাকশন কোথায় হচ্ছে সেটা রিয়েলি ইম্পর্ট্যান্ট, ইন্ডিয়ার বাজারে ইন্ডিয়ান লোকাল ব্রান্ডের বাইকের ডিউরেবিলিটি জাপানিজ ব্রান্ডের বাইকের চেয়েও বেটার হতে দেখা যায়। আবার ইন্ডিয়ার চেয়ে জাপানিজ ব্রান্ডের ইন্দো এবং থাই ভার্সনগুলো মাচ বেটার। 

একটা বাইক সম্পর্কে ফিডব্যাক দেয়ার আগে প্রতিটা কাস্টমার বা ইউজারের উচিত সঠিক ফিডব্যাক দেয়া যাতে আপনার দেয়া ফিডব্যাকের কারনে একটা সঠিক প্রোডাক্ট ভ্যালু পায়। এতে আপনার সাথে সাথে অন্যরাও উপকৃত হবে। তাছাড়া বায়াসড বা পেইড রিভিউ এখন আরেক মহামারির নাম।

মনে রাখা উচিত, যদি আপনি অন্ধের মত সামান্য কিছু সুবিধার বিনিময়ে খারাপ জিনিসটাকেও ভালো বলতে থাকেন তাহলে এই চক্রে খুব শীঘ্রই আপনিও পড়বেন এবং ফে*ই*ক বা পেইড রিভিউ/ফিডব্যাক দেখে কোনো বাইক কিনে রাম ধরা খাবেন আর কপাল চাপড়াবেন। হ্যাপি বাইকিং।


Follow BIKE DOCTOR BD

চলবে...

বাংলাদেশে KTM125 ফ্লপ হবার তিন কারন

KTM ব্রান্ডের বাইকগুলো নিয়ে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বেশ ফ্যাসিনেশন থাকলেও অস্ট্রিয়ান ব্রান্ড KTM আমাদের দেশের বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। 

 
KTM এর লাইন আপে লোয়ার সিসি সেগমেন্ট অথবা ১৫০ সিসি সেগমেন্টে কোনো বাইক নাই,  তাই সিসি লিমিটের কারনে KTM125 ছাড়া আর কোনো বাইক বাংলাদেশে এতদিন ঢুকতে পারেনি। এছাড়াও KTM125 আমাদের দেশে ফ্লপ বাইকের তালিকায় জায়গা করে নেয়ার পেছনে আরো বেশ কিছু কারন আছে। 

তবে মোটামুটি ৩টা বড় কারন আমার চোখে ধরা পড়েছে। যদি বাইকের লুক & ফিল, কোয়ালিটি এবং পার্ফমেন্স বিচার করেন তাহলে KTM125 বাইকগুলো একদম টপ লিস্টে থাকবে এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই।


বাইকের টায়ার থেকে শুরু করে, সাস্পেনশন, ব্রেকিং ইকুইপমেন্টস, বডিপার্টস, কন্সোল, ইঞ্জিন পার্টস সহ প্রতিটা পার্টের কোয়ালিটি অনেক অনেক ভালো এবং ডিউরেবল।
নিম্মমানের কোনো পার্টস KTM এর বাইকগুলোতে নাই। মজার ব্যাপার হলো সেইম বাইকের ২০০, ২৫০ এবং ৩৯০ সিসি ভার্সনে যেই ফ্রেম/শ্যাসি, স্পেক এবং ফিচার পাবেন, ১২৫ সিসিতেও অলমোস্ট সেইম ফিচার পাবেন।
শুধু ইঞ্জিন ডিস্প্লেসমেন্টে পার্থক্য থাকবে।


প্রিমিয়াম ১২৫ সিসি হিসেবে পার্ফমেন্স একদম ঠিকঠাক। অর্থাৎ যেমন হওয়া উচিত ঠিক তেমন।
কিছুক্ষেত্রে হেড টু হেড কোয়ালিটি এবং পার্ফমেন্স কম্পেয়ার করলে অন্যান্য প্রিমিয়াম ১৫০ সিসির ঘাম ছুটিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

তাছাড়া ইউরোপিয়ান মার্কেট অনেক সেন্সেটিভ, তাই ওই রিজিয়নকে টার্গেট করে বাইক বানালে কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজের কোনো সুযোগ থাকে না। এই কারনে প্রাইসটাও বেড়ে যায়।


Most Important ফ্যাক্ট,
ইউরোপে ১২৫ সিসি বিগিনারস বাইক হলেও বাংলাদেশের Perspective অনুযায়ী এটা মোটেও কমন পিপলের বাইক না।
খুব ভালো টেকনিক্যাল নলেজ এবং এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে এই বাইক সবাই মেইন্টেইন করতে পারবে না।

খুব ভালো করে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেছি,

বাংলাদেশে KTM জনপ্রিয় না হবার পেছনের বড় ৩ টা কারন রয়েছে,

প্রথমত, KTM125 বাইকের প্রাইস অনেক বেশি। আমাদের দেশে ১২৫ সিসি সেগমেন্টের বাইক কেনার যে কাস্টমার বেজ রয়েছে তাদের এফোর্ডেবিলিটির বাইরে KTM125.
সাধারণত আমাদের দেশে যারা ১০০-১২৫ সিসি বাইক কেনে তাদের বাজেট থাকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। তাদের ১২৫ সিসি বাইক কেনার মুল পারপাসগুলো হলো,

ডেইলি কমিউটিং,
✅ লো মেইন্টেনেন্স এবং
✅ হাই মাইলেজ।

এই বেসিক নীডস ফুলফিল করার জন্য দেড় লাখের মধ্যে প্রচুর ১২৫ সিসি বাইক বাজারে এভেইলেবল। 

দ্বিতীয়ত, প্রপার সার্ভিস সেন্টার এবং স্পেয়ার পার্টসের  অভাব, সেই সাথে স্পেয়ার পার্টস অনেক এক্সপেন্সিভ। এতবড় একটা ব্রান্ডের বিপরীতে ঢাকাসহ সারাদেশে মাত্র ৩টা সার্ভিস সেন্টার যা রীতিমতো হতাশাজনক। রেগুলার মেইন্টেনেন্স স্পেয়ার পার্টস যেমন ব্রেক প্যাড, এয়ার ফিল্টার, অয়েল ফিল্টার, ক্যাবলস, চেইন স্প্রোকেট টাইপের কঞ্জুমেবল পার্টসগুলোর দাম রিজনেবল এটা ভালো দিক এবং প্রতিটা স্পেয়ার পার্টসের লাইফস্প্যান অনেক লং। সমস্যা হলো স্পেয়ার এভেইলেবল না থাকা।

বডিপার্টস সহ অন্যান্য পার্টস একটু বেশিই এক্সপেন্সিভ তবে এগুলোর বিল্ড কোয়ালিটি একটু বেশিই ভালো তাই মেজর এক্সিডেন্ট না হলে সহজে নস্ট হয় না।

KTM বাইকগুলো টেকনোলজিক্যালি প্রচুর এডভান্সড হবার কারনে ওয়েল ট্রেইন্ড প্রপার হ্যান্ড ছাড়া এই বাইক সার্ভিস করা ডিফিকাল্ট। এই ব্যাপারে KTM এর বাংলাদেশী পরিবেশক ভীষণ উদাসীন বলেই মনে হলো। এখানে সিরিয়াসলি অনেক ইম্প্রুভাইজেশন খুব প্রয়োজন। 

তৃতীয়ত, আমাদের দেশে KTM ব্রান্ডটা নতুন ঢুকেছে তাই এর সম্পর্কে আমাদের এওয়ারনেস কম। প্রচার প্রচারনাও কম। তাছাড়া সেইম প্রাইস বা এর চেয়ে কম প্রাইসে বাজারে Honda, Yamaha, Suzuki র মত Well Known ব্রান্ডের ১৫০সিসি স্পোর্টস বা ন্যাকেড স্পোর্টস বাইক এভেইলেবল। সেগুলোর স্পেয়ার/সার্ভিস এভেইলেবল এবং এফোর্ডেবল তাই সেইফ সাইডে থাকতেই মানুষ KTM125 ট্রাই করতে চায় না।

তবে KTM125 বাইকের প্রতিটা ভার্সনেরই রাইড কোয়ালিটি চমৎকার, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই। সামনে হাইয়ার সিসির KTM দেশে রিজনেবল প্রাইস পয়েন্টে এভেইলেবল হলে এবং সার্ভিস স্পেয়ার্স এভেইলেবল এবং এফোর্ডেবল করতে পারলে KTM নিজের শক্ত একটা অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আশা করা যায়।


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ

এডমিন, BIKE DOCTOR BD

ছাপড়িদের অপছন্দের বাইক

New Honda Xblade Impression!! 

কালার গ্রাফিক্স যেমন সুন্দর৷ 

বাইকের ডিজাইনটাও অনেক স্মার্ট। 

নতুন ৩ টা কালার ভেরিয়েন্ট এসেছে। 

৩ টাই সুন্দর। লাল আর সিলভার এই দুইটা কালার পার্সোনালি বেশি ভালো লেগেছে। 

কম্ফোর্টেবল সীটিং পজিশনের সাথে হোন্ডার রিলায়েবল স্মুথ ইঞ্জিন।


এই সেগমেন্টে সব কম মেইন্টেনেন্স খরচ মনে হয় এই বাইকেই। যদিও Robo Faced LED headlight দিয়েছে তবে হেডলাইটের আলো বেশ কম লেগেছে আমার কাছে। এটা আরো ভালো হতে পারতো। হাইওয়েতে গেলে এক্সট্রা ফগলাইট ইন্সটল করে নিতে হবে। সামনের টায়ারটা আরেকটু ফ্যাটি হলে খুব ভালো হতো। এই আপগ্রেড টা আশা করেছিলাম। 

যাইহোক,

Best Part হলো Xblade এর ইনক্রেডিবল মাইলেজ। একটা ১৬০ সিসির কার্বোরেটর ইঞ্জিনের বাইক হয়েও ৫৫+ মাইলেজ দেয় যা অন্যান্য ১৫০ সিসি fi বাইকগুলোকে লজ্জা পাইয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। গ্রামের কাচা রাস্তা, শহরের জ্যাম অথবা হাইওয়ে সবখানেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার মত একটা প্রুভেন বাইক হলো Honda Xblade.

দাম অনুযায়ী বিল্ড কোয়ালিটি ঠিকঠাক। 


রাস্তায় যারা Xblade চালাচ্ছে, খেয়াল করে দেখবেন এরা যথেষ্ট ম্যাচিওরড এবং রেস্পন্সিবল স্মার্ট বাইকার। 

রাস্তায়  আত্রা ফ্রাত্রা ছাপড়িদেরকে কখনো আমি Xblade চালাতে দেখিনি। 

মোটামুটি এই ছিলো New Honda Xblade নিয়ে আমার প্রাথমিক অবজারভেশন। অন্য কোনো বাইক নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখে জানান। 


হ্যাপি বাইকিং ।

Follow BIKE DOCTOR BD

স্পীড লিমিট মেনে ব্রেক ইন পিরিয়ড নয়

অনেক বন্ধুই নতুন বাইক কিনে বুঝতে পারেনা, ব্রেক ইন পিরিয়ডে কত কিলোমিটার স্পীডে রাইড করতে হবে???

তাছাড়া বিভিন্ন নামীদামী ব্রান্ডের শোরুম থেকেও ব্রেক ইন পিরিয়ড নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে থাকে৷ অনেক সময় ৪০-৫০ এর বেশি স্পীড তুলতে নিষেধ করে দেয় এবং এতে বাইকের ক্ষতি হবার ভয় দেখায়।


সঠিক পদ্ধতি হলো প্রথম ৫০০ -২০০০ কিমি পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ হাজার RPM মেইনটেইন করে চালাতে হবে এবং হঠাৎ জোরে এক্সিলারেট করা যাবেনা। 

এই সময়টাতে গিয়ার শিফটিং করতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত। 

যেমন ফার্স্ট গিয়ারে ১০-২০ 

সেকেন্ড গিয়ারে ২০-৩০, 

থার্ড গিয়ারে ৩০-৪০, 

ফোর্থ গিয়ারে ৪০-৫০, 

ফিফথ গিয়ারে ৫০-৬০ কিমি/ঘন্টা, এই রকম স্পীড  রেশিও মেইনটেইন করলে ভালো হয়। 


আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো :

🟪 একই আরপিএমে বেশিক্ষণ চালানো যাবে না। 

🟩 ওভারলোড নেয়া যাবেনা। 

🟦 সকালে প্রথম স্টার্ট দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে ইঞ্জিন গরম হবার জন্য। 

🟨একটানা অনেকক্ষণ চালানো যাবে না, কিছুক্ষন পর পর ইঞ্জিনকে রেস্ট দিতে হবে। 


পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং ফলো করুন BIKE DOCTOR BD





ফ্রি সার্ভিসের ফাদে পড়ছেন না তো?

 ফ্রি সার্ভিস কি আসলেই ফ্রি?



ফ্রি শব্দটা শুনলেই কেমন যেন খুশি হয়ে যাই আমরা তাই না?

এই খুশির সুত্র ধরেই বিভিন্ন কোম্পানি বাইক বিক্রির সময় নির্দিষ্ট মেয়াদে কিছু ফ্রি-সার্ভিস অফার করে।


কিন্ত কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সার্ভিস গুলো আসলেই ফ্রি কিনা??


না, কখনোই ফ্রি নয়,  


সার্ভিসের চার্জগুলো বাইকের দামের সাথেই হিডেন ভাবে যোগ করা থাকে। তাই ফ্রি সার্ভিস পেলে খুশিতে লাফ দেয়ার কোনো কারন নেই বরং এটা বাইক ক্রেতার অধিকার।


খেয়াল করে দেখবেন ফ্রি সার্ভিস দেয়ার ব্যাপারটিকে অফিসিয়াল এবং আন অফিসিয়ালের প্যাচ মোচড় দিয়ে বাইকের পরিবেশক এমন ভাবে উপস্থাপন করেন যাতে করে মনে হবে আপনাকে অতিরিক্ত আদর আপ্যায়ন করা হচ্ছে, কোম্পানি আপনার প্রতি খুবই যত্নবান। আপনার বাইকের জন্য তারা মহা চিন্তিত।


অবশ্য এর পেছনে যৌক্তিক কারনও আছে।


মুলত এই ফ্রি সার্ভিসের আড়ালেই রয়েছে বিরাট ব্যাবসায়িক ফাদ।

একটা ছোট গল্পের মাধ্যমে উদাহরণটা দিলে আরো ভালোভাবে বুঝবেন।।


প্রথমে যখন এই উপমহাদেশে চায়না থেকে চা ব্যাবসায়ীরা চা বিক্রি করতে এসেছিলো তখন কেউই চা খেতে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। 

একপর্যায়ে চায়নারা ফ্রি তে চা খাওয়ানো শুরু করলো এবং চায়ের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে মোটিভেশন দেয়া শুরু করলো। 

বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণা আর বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করলো।

কিছুদিনের মধ্যেই মানুষের মধ্যে চা খাওয়ার অভ্যস্ততা তৈরি হলো এবং বর্তমানে চায়ের ব্যাবসা কতটা লাভজনক সেটা আশা করি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হবে না।

অলিতে গলিতে আর কিছু না থাক, চায়ের দোকান পাবেন না এটা অসম্ভব।

বিভিন্ন ফ্লেভার, বিভিন্ন নাম এবং দামে বাহারী চা খাচ্ছি উচ্চমুল্যে। 

অপরদিকে চা খেতে যে পরিমাণ সময়, এফোর্ড আর পয়সা খরচ করছি তার বিপরীতে আমাদের লসের অংক কিন্ত বিরাট। 

তাছাড়া চা তে এমন আহামরি কোনো জীবন রক্ষাকারী উপাদান আছে বলেও কোনো রিসার্চ নেই।

উপকারীতা থাকলেও তা খুব সামান্য। 

বরং অতিরিক্ত চা পানে ক্ষুধামন্দা, অনিদ্রা, শরীর কড়া হওয়া সহ নানান জটিলতা রয়েছে। 

কিন্ত চায়ের সাথে সম্পৃক্ত কাউকেই চা পানের ক্ষতিকর দিক বা সমস্যা হাইলাইট করতে দেখবেননা, 

বরং চা খেলে কি লাভ, কোন ব্রান্ডের চা খেলে কতটা চাংগা লাগে এসব দিকেই ফোকাস দিতে দেখবেন কারন পাবলিকের ব্রেইন ওয়াশ করতে পারলে চায়ের সেল বাড়ে, লাভ বেশি হয়। 


একইভাবে শুরুতে ফ্রি সার্ভিস (আসলে ফ্রি নয়) দিয়ে অভ্যস্ততা তৈরি করা হয়।

কারন ফ্রি শুনলে আমরা নতুন লুংগি পেতে আলকাতরা নিতেও লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি করি এটা খুব কমন ঘটনা।

 

ফ্রি সার্ভিসে নিতে গেলে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে বুঝানো হয়, রেগুলার সার্ভিস না করালে বাইকের বিরাট আকারের ক্ষতি হবে, একমাত্র তাদের সার্ভিস সেন্টার ছাড়া 

পৃথিবীর আর কোথাও জেনুইন পার্টস পাওয়া যায়না, অথোরাইজড সার্ভিস সেন্টার ছাড়া অন্য কোনো সার্ভিস সেন্টারে সার্ভিস করালে তারা আর কোনো ওয়ারেন্টি দেবেনা ইত্যাদি ভয়ভীতিও দেখানো হয়। 


বাইরে থেকে কোনো পার্টস কিনে নিয়ে গেলে সেটাও তারা লাগিয়ে দেবেনা। বলবে সেটা নকল পার্টস। অর্থাৎ তাদের কাছ থেকেই পার্টস কিনতে বাধ্য করবে আপনাকে।


আদতে একটা ব্রান্ড নিউ বাইকে প্রথম এক বছরে ফ্রি সার্ভিসের নামে তারা কি কি সার্ভিস করে কখনো খেয়াল করে দেখেছেন?


ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ,

অয়েল ফিল্টার চেঞ্জ,

বড় নাট বোল্ট গুলা চেক করা,

চেইনে লুব দেয়া আর ওয়াশ ছাড়া আর কোনো বিশেষ সার্ভিস কি আসলেই তারা করে?

অবশ্য নতুন বাইকে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজনও হয়না।

বরং বেশি বেশি খোলা ফিটিং হলেই বাইকে নানান রকম ইস্যু ক্রিয়েট হয়। 


তাছাড়া কোম্পানির সার্ভিস সেন্টারে গেলেই দেখবেন নানান উসিলায় পার্টস সেল করার একটা প্রবনতা থাকে। মুলত ব্যাবসাটা ওই পার্টস সেলের মধ্যেই।

বাইক বিক্রি করে লাভ করে একবার, কিন্ত পার্টস বানিজ্য চলতেই থাকে বছর জুড়ে। 


যে কোম্পানিকে যতবেশি সার্ভিস সেন্টার আর জেনুইন পার্টস নিয়ে হাইলাইট করতে দেখবেন বুঝে নেবেন তাদের বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি তত দুর্বল। 


যদি বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি ভালো হয়, পার্টস কোয়ালিটি ভালো হয় তাহলে একটা বাইকে অতিরিক্ত সার্ভিস এবং স্পেয়ার পার্টস লাগা খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। 


তবে হ্যা, কিছু বেসিক কনজুমেবল পার্টস লাগবেই, যেমন, ব্রেক প্যাড, অয়েল ফিল্টার, এয়ার ফিল্টার, ক্লাচ ক্যাবল, চেইন স্প্রকেট, টায়ার ইত্যাদি।


যদি দেখেন কোনো কোম্পানি ফ্রি সার্ভিস নেয়ার জন্য বারবার ফোন করে রিমাইন্ডার দিচ্ছে তখন তাদেরকে বন্ধু ভাবার কোনো কারন নেই।

কেননা তারা যদি বন্ধুই হতো তাহলে পার্টসের দাম ৩-৪ গুন বেশি না নিয়ে রিজনেবল রাখতো এবং ভালো বিল্ড কোয়ালিটির বাইক দিয়ে আমাদের মেইন্টেনেন্স খরচ কমিয়ে দিতো।

তাহলেই ঘন ঘন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে আমাদের সময় এবং টাকার অপচয় করতে হতো না।


বাস্তবতার সাথে পোস্টের মিল খুজে পেলে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন।

আর অবশ্যই বাইক কেনার আগে সার্ভিস এবং পার্টস বানিজ্যের ব্যাপারে খোজ খবর নেবেন। 


ফ্রি সার্ভিস নিতে গিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো কমেন্টে লিখে জানাতে পারেন।


ভালো থাকুক আপনার বাইক।

হ্যাপি বাইকিং।


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ 

এডমিন, Bike Doctor BD

হাইওয়েতে সবুজ বোর্ডে N1,N2 কেন লেখা থাকে?

 N1, N2,.... N3 ইত্যাদি লেখাগুলোর সাথে আমরা অনেকেই হয়তো পরিচিত। কারন বিভিন্ন হাইওয়ে ধরে যাওয়ার সময় সবুজ সাইনবোর্ডে এই লেখাগুলো আমরা প্রায়ই  দেখি। কেউ কেউ এই লেখা ডিকোড করতে পারলেও আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, 


আসলে এই লেখাগুলো দ্বারা কি বুঝানো হয়?



N1, N2, N3 এগুলো হচ্ছে আমাদের জাতীয় মহাসড়ক (হাইওয়ে) সমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ। যার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়, কোনটা কোন মহাসড়ক? 


আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল হাইওয়ে আছে মোট আটটি। 


চলুন জেনে নিই, আমাদের দেশের আটটি মহাসড়কের সংক্ষিপ্ত নাম- এবং কোন নাম দিয়ে কোন মহাসড়ক বুঝানো হয়


🟨N1 = ঢাকা - চট্টগ্রাম - টেকনাফ


🟩N2 = ঢাকা - সিলেট - তামাবিল


🟦N3 = ঢাকা - ময়মনসিংহ 


🟪N4 = ঢাকা - জামালপুর


🟫N5 = ঢাকা - আরিচা - রংপুর - বাংলাবান্ধা


⬛N6 = ঢাকা - রাজশাহী - চাপাইনবাবগঞ্জ 


🟧N7 = দৌলতিয়া - খুলনা - মোংলা


🟥N8 = ঢাকা - ভাঙ্গা - বরিশাল - পটুয়াখালী

চোরের সর্দার জানালো বাইক চুরি ঠেকানোর উপায়

মোটরসাইকেল যারা চালাই তাদের অনেক বড় একটা টেনশন থাকে বাইকের নিরাপত্তা নিয়ে। কারন,

বাইক নিয়ে বিভিন্ন কাজে গেলে বাইক খোলা জায়গায় পার্ক করতে হয়।


অরক্ষিত পার্কিং থেকেই বাইক চুরি হবার ঝুকি থাকে সবচেয়ে বেশি।


বাইকারদের কাছে বাইক অনেক শখের এবং প্রয়োজনীয় একটা ভেহিক্যাল। অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় বাইক চুরি হবার প্রবনতা অনেক অনেক বেশি তাই বাইকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। 


কিন্ত কিভাবে? 

বাজারে যেসব তালা বা ডিস্ক লক পাওয়া যায় সেগুলো কতটা নিরাপদ এটা নিয়েও প্রচুর কনফিউশান আছে ৷

তাছাড়া সাধারণ তালাগুলো ভেংগে ফেলাও খুব সহজ। বিভিন্ন সিসিটিভি থেকে বাইক চুরির ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে সাধারণ ডিস্কলক বা তালা ভাংতে চোরের সময় লাগে গড়ে ১৪ সেকেন্ড। ঘাড় লক ভাংতে ৪ সেকেন্ড এবং মাস্টার চাবি দিয়ে বাইক চালু করতে ৬ সেকেন্ড। 

অর্থাৎ মাত্র ২৫ সেকেন্ডের কম সময়ে একটা বাইক চুরি হয়ে যেতে পারে। 


পরিসংখ্যান বলছে শুধুমাত্র ঢাকা শহর থেকে প্রতিমাসে চুরি হয় ৩৬-৪০ টি বাইক এবং বছরে প্রায় ১৪ হাজার বাইক। 


মিরপুর, বাড্ডা, শ্যামলি, মাটিকাটা, শাহবাগ, মিটফোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা এবং কামরাংগীরচরে অন্তত ২০টি সক্রিয় চোরচক্র রয়েছে। 

চুরি যাওয়া বাইকগুলো ঢাকার বাইরে পাচার করে দেয়া বা যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করে দেয়া হয়। 


অভিজ্ঞ একজন মোটরসাইকেল চোরের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি কি কি উপায়ে মোটরসাইকেল লক করলে সেটা চুরি করা অসম্ভব? চলুন দেখি চোর কি কি বলেছে?


শীর্ষ মোটরসাইকেল চোর আবুল কালাম। ১৩ বছরে যিনি দুইশোর বেশি মোটরসাইকেল চুরি করেছেন। 

তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৫৩টি।

প্রায় ১০-১২ জনের একটা চোর চক্রের ওস্তাদ তিনি। বললেন মোটরসাইকেল চুরি ঠেকানোর ৩ টি উপায় নিয়ে। 


প্রথমত : মোটরসাইকেলে তীব্র শব্দের সিকিউরিটি এলার্ম লাগানো। যেন বাইক স্পর্শ করলেই এলার্ম বেজে উঠে। এলার্ম বাজলে চোরেরা সেই বাইকের উপর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে এবং দুরত্ব বজায় রাখে। কারন শব্দ এবং আলো এই দুটি জিনিস চোরের চিরশত্রু। 

দ্বিতীয়ত : জিপিএস ট্র‍্যাকার লাগানো যেতে পারে যাতে বাইকের অবস্থান সহজেই সনাক্ত করা যায়। তবে মোটরবাইকে জিপিএস লাগালে সেটা অবশ্যই এলার্মের সাথে কম্বাইন্ড করে লাগানো উচিত। কারন বাইক স্পর্শ করলে শব্দ হওয়া অনেক বেশি জরুরি। 


তৃতীয়ত : এলার্মের পাশপাশি সাধারণ ডিস্কলক ব্যাবহার না করে মোটা এবং লম্বা হুকের তালা ব্যাবহার করতে পারলে ভালো কারন সেগুলো ভাংতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় এবং পরিশ্রম লাগে। 


এই ৩টি উপায়ে বাইক লক করা থাকলে চোর কখনোই ঝুকি নিতে চায় না। 


কোন ধরনের বাইক চুরি করতে বেশি আগ্রহী এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজারে যেসব বাইক সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কমন সেগুলোর দিকেই চোরের টার্গেট থাকে বেশি, যেমন FZS, Gixxer, 4v, Pulsar, R15, CBR, MT15, Hunk, Hornet, Discover এসব বাইক চুরি করে বিক্রি করা সহজ, কারন এসব বাইকের কাস্টমার এভেইলেবল। দাম ভালো পাওয়া যায়৷ 


বাজারে এভেইলেবল কোন ধরনের লক বা তালাকে ভয় পান? এর উত্তরে তিনি জানান অরিজিনাল চোর কখনো কোনো তালাকে ভয় পায় না। 

তবে TASSLOCK টাইপের এলার্ম এবং জিপিএস সহ কম্বাইন্ড সিকিউরিটি সিস্টেম গুলো লাগানো থাকলে আমরা প্রচন্ড বিরক্ত হই, যার কারনে এলার্ম লাগানো বাইকগুলো এড়িয়ে চলি। 


সাধারণত কোন সময়টাতে বাইক চুরি করেন? জবাবে তিনি বলেন, 

চুরির আসলে কোনো নির্দিস্ট সময় নাই, তবে রোজার সময়, ঈদের সময় চুরি করতে বেশি সুবিধা। কারন রোজার সময় মানুষ ক্লান্ত থাকে, বাইকের দিকে খেয়াল রাখে কম। ঈদেও মানুষ ব্যাস্ততা বা মার্কেট করা নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কারনে বাইকের কথা ভুলে যায়। 



লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ।

এডমিন, Bike Doctor BD

Hero XMR 210 চালিয়ে কেমন লাগলো?

প্রথম ১০০ কিমি চালিয়ে ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করেছেন Hero XMR Owner 

-- Rezwan Hossain.

জেন্টলি ক্রুজ করে সর্বোচ্চ ৯০ পর্যন্ত স্পিড তুলেছি।

সিটি, হাইওয়ে, বালির রাস্তা, গ্রাম সব মিলিয়ে চালানো হয়েছে। 

বিভিন্ন দিক-

✅ সিটিং পজিশন - এত ভাল যেটা আশাতীত।

✅ মাইলেজ- ৩৩ দেখায় এভারেজ। আমার প্রত্যাশা ৩৫। যা একটা সার্ভিসের পর আরো বেশি পাব আশাকরি।

✅ লুক- এটা নিয়ে বলার ভাষা নাই। ব্যক্তিগত মত হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুড লুকিং বাইক।

✅ এক্সেলেরেশন- নতুন বাইক কিন্তু খুব স্মুথ। আর কিছু বলব না একবার চালাইলে বুঝবেন।

✅ ব্রেকিং - সুপার 👌👌

✅ ভাইব্রেশন- যেহেতু রেভিং করিনি মন্তব্য করতে পারছি না। যা চালিয়েছি তাতে অতিরিক্ত ভাইব্রেশন টাইপ কিছু ফিল হয়নি।টা

✅ টায়ার গ্রীপ- অনেক ভাল কনফিডেন্স পাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে রেডিয়াল টায়ার হলে আরো ভালো হতো। 

✅ হিটিং- লিকুইড কুলিং থাকায় বাড়তি হিট হচ্ছে বলে মনে হয় নাই। তবে একটানা দীর্ঘ রাইড করলে ভালো বুঝা যেতো।

✅ সাউন্ড - আরপিএম ভেদে একেক রকম। লো আরপিএমে জেন্টল সাউন্ড। খারাপ না। 

সবমিলিয়ে আমি প্রত্যাশা থেকে বেশি খুশি আলহামদুলিল্লাহ। আমি এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে যে বাইক গুলা চালিয়েছি- পালসার ১৫০, 

ডিসকভার ১৩৫, 

জিক্সার এস এফ এফ আই এবিএস এবং 

Yamaha R15 v3. ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন।

চেইনলুবে অপচয়, গিয়ার অয়েলে হবে জয়

 

একটা সময় চটকদার বিজ্ঞাপন এবং পেইড রিভিউ দেখে নামি ব্রান্ডের দামি চেইন লুব ইউজ করেছিলাম বেশ কিছুদিন।

কিন্ত খুব অবাক হলাম যখন দেখলাম  মাত্র ২০০ কিমি 
না যেতেই চেইন শুকিয়ে আবার আগের মত 
খড়খড়ে হয়ে যাচ্ছে।
৪০০-৫০০ টাকার চেইন লুব সর্বোচ্চ ৭-৮ বার ইউজ করলেই শেষ। তার উপর বারবার লুব করার ঝামেলা। 

খুজতে থাকলাম এই সমস্যার কারন এবং সমাধান।

কারন খুজতে গিয়ে যা পেলাম তা হলো, আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং পরিবেশ। অর্থাৎ আমাদের দেশে আমরা অতিরিক্ত ধুলাবালিপুর্ন রাস্তায় নিয়মিত বাইক চালাই, সেই সাথে বছরের প্রায় ৩ ভাগের একভাগ থাকে কাদাবৃস্টি। তাই চেইন লুব কোনোভাবেই ভালো কভারেজ দিতে পারেনা। 

সমাধান হিসেবে ইঞ্জিন অয়েল এবং গিয়ার অয়েল ইউজ করলাম এবং আবারো অবাক হলাম চেইন লুব হিসেবে গিয়ার অয়েলের পার্ফমেন্স দেখে।

অনেক দীর্ঘ সময় ধরে কভারেজ দিতে সক্ষম গিয়ার অয়েল। দামও অনেক কম। 

ধুলাবালি কাদাবৃস্টি যাই হোক গিয়ার অয়েল দিয়ে একবার চেইন লুব করে নিলে কমপক্ষে ৪০০-৫০০ কিলো খুব সুন্দর ভাবে চলে। প্রচুর পিচ্ছিল হওয়ায় চেইন স্প্রকেটের ফ্রিকশন অনেক কমে যায়, ফলে চেইনের লাইফস্প্যান বেড়ে যায়। ভারী হবার কারনে সহজে চেইন শুকিয়ে যায় না। লুব্রিসিটি ধরে রাখে দীর্ঘ সময় ধরে। চেইনের স্মুথ অপারেশনের কারনে বাইকের মাইলেজও সামান্য বাড়ে। 

আরো অবাক করা ব্যাপার হলো শুধু আমি না,  হাজার হাজার বাইকারের অভিজ্ঞতাও ঠিক আমার মত এবং তারাও দামী দামী চেইন লুব কিনে ধরা খেয়ে পরে বিকল্প হিসেবে গিয়ার অয়েল ব্যাবহার করে অনেক ভালো রেজাল্ট পাচ্ছেন। 

দামী চেইন লুব খারাপ সেটা কিন্ত বলছি না, চেইনলুব অবশ্যই ভালো পার্ফমেন্স দেয় তবে যেখানে ধুলোবালি, কাদা নেই কেবল সেই সমস্ত যায়গায়। যেমন ধরুন ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের মত দেশে। 

ব্রান্ড ভেদে ১ লিটার ৯০ অথবা ১৪০ গ্রেডের গিয়ার অয়েলের দাম ২৫০-৩০০ টাকার মধ্যেই৷

এক লিটার গিয়ার অয়েল দিয়ে প্রায় ৪০ বারের বেশি চেইন লুব করা সম্ভব। 

অর্থাৎ দেড় থেকে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার চলার জন্য চেইন লুব বাবদ খরচ করতে হচ্ছে মাত্র আড়াইশো টাকা। 

এবার নিজেই সিদ্ধান্ত নিন চেইন স্প্রকেট থেকে বেস্ট পার্ফমেন্স পেতে চেইনের যত্নে আপনি কোনটা বেছে নেবেন?? 

বেশি দামী কম কার্যকরী চেইনলুব নাকি বেশি কার্যকরী সস্তা গিয়ার অয়েল? 

লেখাঃ Admin, Bike Doctor BD.