কমতে পারে জ্বালানি তেলের দাম।

সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সংকট এবং ডলার রেটের উর্ধগতির সাথে পাল্লা দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম চলে গেছে নাগালের বাইরে। 



রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে এই সংকট মারাত্বক আকার ধারণা করে। 


 ৮৯ টাকা লিটার থেকে একলাফে ১৩০ টাকা লিটারে চলে যায় অকটেনের মুল্য। পেট্রোল ডিজেল কেরোসিন সবকিছুতেই ৩৬ থেকে ৪৩ শতাংশ মুল্য বৃদ্ধি হয়। 

বর্ধিত জ্বালানি তেলের দামের কারনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পরিবর্তন সেক্টর সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারেও। 

সময়ের সাথে সাথে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও আমাদের দেশে এর প্রভাব পড়েনি। 

তবে IMF এর শর্তানুযায়ী এবার তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হতে পারে কর্তৃপক্ষ। 

বিপিসি জানিয়েছে ডিজেলের দামে খুব বেশি মুনাফা তারা করছে না। তাই মূল্যহ্রাস করার খুব বেশি সুযোগ নেই। 

কিন্ত অকটেন এবং পেট্রোলের ক্ষেত্রে প্রতি মাসেই মুল্য সমন্বয় করা হবে। অকটেনের মুল্য প্রতি লিটার ডিজেলের চেয়ে ১০ টাকা বেশি হবে এমন আশ্বাস দিয়েছে বিপিসি। 

তেলের নতুন মুল্য চলতি মাসেই কার্যকর হবার সম্ভাবনা রয়েছে।



কেমন দামে লঞ্চ হতে পারে Gixxer 250?

Suzuki Gixxer বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় একটা বাইক । 

বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের কাছে Gixxer এর গ্রহনযোগ্যতা অনেক অনেক বেশি। 

Gixxer কি পরিমাণ জনপ্রিয় আর রাস্তায় কত বেশি জিক্সার চলে সেটা যেকোনো ট্রাফিক সিগনালে দাড়ালে যে কেউ সহজেই বুঝে যাবে। গোটা ২০২৩ সাল জুড়ে জিক্সার ছিলো এই সেগমেন্টের সবচেয়ে হাইয়েস্ট সেলিং বাইক। 


কিন্ত জিক্সার এত বেশি পপুলার হবার কারন কি??

কি এমন স্পেশাল ব্যাপার আছে জিক্সারে??

মুলত জিক্সারের এগ্রেসিভ ডিজাইন ল্যাংগুয়েজ, এর আইকনিক স্টাইলিং, মাস্কুলার এবং বোল্ড লুকস, আউটস্ট্যান্ডিং রোড প্রেজেন্স তো আছেই। সেই সাথে অসাধারণ ইঞ্জিন পাওয়ার, দারুন ব্রেকিং, বাইকটিকে সবার থেকে এগিয়ে রাখে। বাইকের ওয়াইডার টায়ার বাইকের স্ট্যাবিলিটিকে আরো বেশি ইনক্রিজ করেছে। 


তাছাড়া, জিক্সারের Design Department বাইকের প্রিভিয়াস মডেল গুলোকে সময়ের সাথে সাথে আপগ্রেড করে নতুন ডায়ামেনশন যোগ করেছে। বাইকে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন আধুনিক ফিচার, নতুন নতুন এক্সাইটিং কালার গ্রাফিক্স। আর এই কারনেই বাইকের চাহিদা দিন দিন বেড়েছে। 


নতুন Gixxer 250 তে থাকছে ২৪৯ সিসির একটা পাওয়ারফুল fi ইঞ্জিন যা ২৬.৫ পিএস পাওয়ার এবং ২২.২ নিউটন মিটার টর্ক প্রোডিউস করতে পারে। চমৎকার এই পাওয়ার ফিগারকে ট্রান্সমিট করার জন্য এতে থাকছে 6 speed Gearbox

dual disk & dual channel ABS এর সাথে থাকছে সামনের চাকার ৩০০ মিমি বিশাল ডিস্ক যা এই বাইকের স্টপিং ডিস্টেন্স Shorter করবে। 
টুইন মাফলারের এক্সহস্ট নোট টা বেশ স্পোর্টি। SEP Tecnology ইঞ্জিন হবার কারনে সিটি এবং হাইওয়ে মিলিয়ে মাইলেজ পাওয়া যাবে ৩৫-৩৮ কিমি পার লিটার। 

সিসি লিমিট বাড়ার পর দেশের বাজারে হাই সিসি বাইক ঢুকতে শুরু করেছে, Pulsar N250, Karizma XMR 210 এর পর আমরা অপেক্ষায় ছিলাম Gixxer & Gixxer SF 250 এর জন্য। শোনা যাচ্ছে খুব দ্রুতই দেশের বাজারে এভেইলেবল হতে যাচ্ছে এই মডেল দুটি। ভারতের বাজারে জিক্সার ২৫০ এর প্রাইস ১ লাখ ৮৪ হাজার রুপি এবং জিক্সার এস এফ এর প্রাইস রেঞ্জ ২ লাখ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার রুপি। 

বাংলাদেশের বাজারে এই বাইক দুটি লঞ্চ হলে ৪ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রাইস রেঞ্জ এক্সপেক্ট করা হচ্ছে। এই বছরের চলতি মাসেই দেশের বাজারে Gixxer এবং Gixxer SF লঞ্চ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। 

লিজেন্ডারি Yamaha R1 এর সমাপ্তি

অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো সমাপ্ত হতে যাচ্ছে ইয়ামাহার লিজেন্ডারি R1 সিরিজের যাত্রা। 

তবে এবার তা সত্যি হতে যাচ্ছে। 

ডিজাইন এবং প্রযুক্তিগত কারনে বহুবছর জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলো Yamaha R1 এর প্রায় প্রতিটি এডিশন। সর্বশেষ R1M এডিশন টেকনোলজিক্যালি অনেক এডভান্সড ছিলো এবং এর ট্র‍্যাক পার্ফমেন্স ছিলো অসাধারণ। 

৯৯৮ সিসির ক্রসপ্লেইন ফোর সিলিন্ডারের একটি পাওয়ারফুল ইঞ্জিন ছিলো এই বাইকে, যা ২০০ হর্সপাওয়ার এবং ১১৩ নিউটন মিটার টর্ক প্রোডিউস করতে পারতো। 

বাইকটিতে এত বড় ইঞ্জিন থাকার পরেও এর ওজন ছিলো মাত্র ২০২ কেজি। 

কারন কুইক ল্যাপটাইম এনশিওর করার জন্য স্পীডের দিকে খুব ফোকাস করা হয়েছিলো। 

এরোডায়ানামিক ডিজাইনের পাশাপাশি বাইকটিকে লাইট ওয়েট করার জন্য ইউজ করা হয়েছিলো কার্বন ফাইবার। 


কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে এত জনপ্রিয়তা থাকা স্বত্বেও ইয়ামাহা মোটর জাপানকে R1 সিরিজের প্রোডাকশন বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কারন, আমরা জানি পরিবেশ দুষন নিয়ে পুরো পৃথিবী বর্তমানে ভীষণ কন্সার্ন। ইউরোপ এবং আমেরিকার পরিবেশ দুষন আইন সাংঘাতিক কড়াকড়ি এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতেও BS6 কম্পলায়েন্ট ইঞ্জিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 


যেহেতু R1 সিরিজের একটা বড় মার্কেট ইউরোপ এবং আমেরিকা কেন্দ্রিক তাই তাদের মার্কেটে কোনো বাইক রিলিজ করতে হলে অবশ্যই তাদের ইমিশন স্ট্যান্ডার্ড মিট করতেই হবে। 

এতদিন সব ঠিকঠাক থাকলেও ইউরোপের ইমিশন স্ট্যান্ডার্ড আপডেট হয়ে EURO 5+ হবার কারনে Yamaha R1M এই স্ট্যান্ডার্ড মিট করতে ফেইল করেছে। 

একই সাথে Yamaha Motor Japan বিভিন্নভাবে চেস্টা করে দেখেছে বর্তমান R1M এর ইঞ্জিন আপডেট করে EURO5+ ইমিশন স্ট্যান্ডার্ডে কনভার্ট করা সম্ভব নয়। তাই তারা R1 কে ডিসকন্টিনিউ করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে। একই কারনে ২০২০ সালেও ইয়ামাহার আরেকটি জনপ্রিয় মডেল R6 এর প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। 

শেষ পর্যন্ত ইয়ামাহা মোটর জাপান ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের পর R1 সিরিজের আর কোনো নতুন সংস্করণ আসবে না। তবে বর্তমান মডেলগুলো ২০২৮ সাল পর্যন্ত এভেইলেবল থাকবে এবং ইউরোপের রাস্তায় চলতে পারবে। 


লেখাঃ ইকবাল আব্দুল্লাহ রাজ 

এডমিন, Bike Doctor BD